সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের বড় লিড পাকিস্তানের জন্য পাহাড়সম চাপ তৈরি করলেও উইকেট নিয়ে খুব বেশি উচ্ছ্বসিত নন তাইজুল ইসলাম। বাংলাদেশের এই বাঁহাতি স্পিনারের মতে, এখনো ব্যাটিংয়ের জন্য যথেষ্ট ভালো উইকেটই রয়েছে। তাই চতুর্থ ইনিংসে জয়ের জন্য মূল চাবিকাঠি হবে নিয়ন্ত্রিত ও শৃঙ্খল বোলিং। দিন শেষে ৪৩৭ রানের লক্ষ্য দাঁড় করিয়েছে বাংলাদেশ। তবে এমন বড় লক্ষ্য নিয়েও সতর্ক তাইজুল।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এটা চতুর্থ ইনিংস হলেও উইকেট এখনো ভালো। তবে টার্গেটটা অনেক বড়। তারা যখন স্কোরবোর্ড দেখবে, তখন চাপ কাজ করবেই। আমাদেরও ডিসিপ্লিন ধরে রাখতে হবে। যে দল ভালো ডিসিপ্লিন বজায় রাখতে পারবে, ম্যাচটা তাদের দিকেই যাবে।’
তাইজুল মনে করেন, শুধু স্পিনারদের ওপর নির্ভর না করে পুরো বোলিং ইউনিটকেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আগের তুলনায় বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ এখন অনেক ভারসাম্যপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাইজুল বলেন, ‘আগে হয়তো একজনকে বেশি দায়িত্ব নিতে হতো। এখন পেসাররা ভালো করছে, মিরাজও ভালো বল করছে। ফলে চাপটা ভাগ হয়ে যাচ্ছে।’
চতুর্থ ইনিংসে নিজের ওপর বাড়তি প্রত্যাশার বিষয়টিও স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন এই স্পিনার। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ম্যাচ জেতানো এখন আর একার দায়িত্ব নয়। ‘তাইজুল আছে মানেই সব আমাকে করতে হবে, এমন কিছু না। আমরা সবাই এখন ভালো অবস্থানে আছি। আমাদের কাজ হবে রান আটকে রেখে উইকেট বের করা। উইকেট এখনো খারাপ হয়নি, তাই শৃঙ্খলা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’- আরও যোগ করেন তিনি।
ব্যাট হাতেও এই টেস্টে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তাইজুল। দুই ইনিংসেই গড়েছেন কার্যকর জুটি। বিশেষ করে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ব্যাটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, অভিজ্ঞ ব্যাটার পাশে থাকলে পরিস্থিতি বুঝে খেলা অনেক সহজ হয়ে যায়। বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়েও ইতিবাচক তাইজুল। তার মতে, মুশফিকদের মতো সিনিয়রদের উপস্থিতি পুরো দলকে আত্মবিশ্বাস জোগায়, ‘সিনিয়র খেলোয়াড়রা যখন বড় ইনিংস খেলে, সেটা অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করে।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

