দ্বিতীয় দিনেও বাংলাদেশের হাসি, অস্ট্রেলিয়ার দুশ্চিন্তা বাড়ছে

দ্বিতীয় দিনেও বাংলাদেশের হাসি, অস্ট্রেলিয়ার দুশ্চিন্তা বাড়ছে

ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার দুশ্চিন্তা বাড়ছেই। প্রথম দিনটা ছিল বাংলাদেশের পেসারদের দাপটের। হাসান মাহমুদের ৬ উইকেটে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় দিন সেই কর্তৃত্বকে আরও দৃঢ় করলেন ব্যাটাররা। তানজিদ হাসান তামিমের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ এবং মুমিনুল হকের ৪৯ রানে বাংলাদেশ এখন এই ম্যাচের চালকের আসনে।

দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৩৫১। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রান পেছনে ফেলে লিড দাঁড়িয়েছে ১৫৩ রানে। দিন শেষে মেহেদী হাসান মিরাজ ৩২ ও হাসান মাহমুদ ১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। বাংলাদেশের হাতে এখনো চার উইকেট, সঙ্গে লিডটাকে আরও বড় করার সুযোগ।

বিজ্ঞাপন

প্রথম দিনেই বাংলাদেশ বুঝিয়ে দিয়েছিল, ডারউইনের বাউন্সি উইকেটে তারা শুধু টিকে থাকতে আসেনি। এসেছে কিছু একটা করে দেখাতে। হাসান মাহমুদের বিধ্বংসী বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে দুমড়ে-মুচড়ে দেওয়ার পর দ্বিতীয় দিন ব্যাট হাতে সেই চাপটা আরও বাড়িয়েছে বাংলাদেশ।

দিনের সবচেয়ে বড় গল্প অবশ্য তানজিদ হাসান তামিম। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো খেলতে নেমে টেস্টে ১০১ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেছেন বাঁহাতি এই ওপেনার। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজের প্রথম টেস্ট ইনিংসে সেঞ্চুরি করা দ্বিতীয় এশীয় ব্যাটার তানজিদ। ১৯৬৪ সালে প্রথমবার এই কীর্তি গড়েছিলেন পাকিস্তানের হানিফ মোহাম্মদ।

তানজিদের সেঞ্চুরির সঙ্গে যোগ হয়েছে শান্তর পরিণত ৮৪। অধিনায়ক হয়তো সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপে থাকবেন। তবে তানজিদের সঙ্গে তার সেঞ্চুরি ছুঁই ছুঁই জুটি বাংলাদেশকে এই ইনিংসে বড় আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছে। সকালে মুমিনুলের ৪৯ এবং পরে মুশফিকুর রহিমের ৩৬ রানের ইনিংসও বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তবে দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকেলে অস্ট্রেলিয়া একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল। দ্বিতীয় নতুন বলে মাত্র ১১ রানে বাংলাদেশের তিন উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের চেহারা বদলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল স্বাগতিকরা। অবশ্য সেই সুযোগও পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি তারা। মিরাজ ও হাসান মাহমুদ প্রায় ২৫ ওভার দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যাবর্তনের দরজা আবার বন্ধ করে দেন। এই ব্যাটিং সাফল্যের দিন লিটন দাস ব্যাট হাতে কোনো সাফল্য রাখতে পারেননি। শূন্য রানে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন তিনি। খানিকবাদে থার্ড স্লিপে মুশফিকের ক্যাচ নিয়ে স্মিথ টেস্টে নিজের ২১৮টি ক্যাচের মালিক হলেন। ইংল্যান্ডের জো রুটের ক্যাচের সংখ্যাও ২১৮। তবে স্মিথ এই কীর্তির মালিক হলেন মাত্র ১২৩ টেস্ট খেলে। রুটের টেস্ট ম্যাচের সংখ্যা ১৬৬ টি।

এই টেস্টের দুই দিন শেষে গল্পটা বাংলাদেশেরই। প্রথম দিন বল হাতে কর্তৃত্ব, দ্বিতীয় দিন ব্যাট হাতে আধিপত্য। এখন সামনে আরও তিন দিন। তবে ১৫৩ রানের লিড বাংলাদেশকে শুধু এগিয়েই রাখেনি, দেখাচ্ছে আরও বড় এক স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের নাম জয়।

অস্ট্রেলিয়া অবশ্য জানে, টেস্টে শেষ কথা বলার সময় এখনো আসেনি। ২০০৬ সালে ফতুল্লায় প্রথম ইনিংসে বড় ঘাটতিতে পড়েও বাংলাদেশকে হারিয়েছিল তারা। কিন্তু দুই দশক পরের এই বাংলাদেশ আর সেই বাংলাদেশ নয়। আর ডারউইনের এই ম্যাচে আপাতত অস্ট্রেলিয়াই খুঁজছে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ।

দুই দিন শেষে হাসি বাংলাদেশের মুখে। এখন সেই হাসি জয় পর্যন্ত টেনে নিতে পারলেই ডারউইনের গল্পটা হয়ে উঠবে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ১৯৮, (স্মিথ ৭১, হাসান মাহমুদ ৬/৫৫)। বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৩৫১/৬ (তানজিদ তামিম ১০১, শান্ত ৮৪, মুমিনুল ৪৯, মুশফিক ৩৬, মেহেদি মিরাজ ৩২*, হাসান মাহমুদ ১৩*)।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন