ডারউইনে প্রথম দিনের দুরন্ত বোলিংয়ের পর বাংলাদেশ দাপট দেখায় ব্যাটিংয়েও। দ্বিতীয় দিনে এসে ব্যাটিংয়ের সেই ছন্দটা ধরে রেখেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরির সঙ্গে নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হকের দুর্দান্ত ব্যাটিং দৃঢতায় অস্ট্রেলিয়ার ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে অতিথিরা। প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৫১ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। এতে সফরকারীরা লিড পেল ১৫৩ রানের। ৩২ রান নিয়ে এখনো ক্রিজে টিকে আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ১৬ রান নিয়ে তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন হাসান মাহমুদ।
এই লিড এনে দেওয়ার পথে সবচেয়ে বড় অবদান তানজিদ হাসান তামিমের। নিজের দ্বিতীয় টেস্টেই সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সেঞ্চুরি করা দ্বিতীয় ব্যাটসম্যানও তিনি।
দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে মুমিনুল হক আউট হওয়ার পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে তানজিদ ইনিংস এগিয়ে নেন। লাঞ্চের পর নিজের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। নাথান লায়নের বলে সিঙ্গেল নিয়ে তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পর দুই হাত তুলে উদ্যাপনে মেতে ওঠেন তানজিদ। অধিনায়ক শান্ত তাকে জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানান। ডাগআউটে থাকা সতীর্থরাও হাততালি দিয়ে উদ্যাপনে যোগ দেন।
তানজিদের সেঞ্চুরির ইনিংসটি সাজানো ছিল ১৮৮ বলে ৮টি চার ও ১টি ছক্কায়। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সঙ্গে দৃঢ় ডিফেন্সের সমন্বয়েই ইনিংসটি গড়ে তোলেন তিনি। নাথান লায়নের বলে মিচেল স্টার্কের হাতে ক্যাচ তুলে দেওয়ার আগে শান্ত থামেন ১৯৭ বলে ১০১ রানের চমৎকার এক ইনিংস খেলে। তার ইনিংসটি সাজিয়েছেন ৮টি বাউন্ডারি ও ১ ছক্কার মারে। সেঞ্চুরির আভাস দিয়েও মিস করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ১২৬ বলে ৭ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় শান্ত খেলেন ৮৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। আর মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে আসে ৩৬ রান
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটসম্যান ছিলেন শাহরিয়ার নাফীস। ২০০৫ সালে ফতুল্লা টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। এবার সেই তালিকায় যোগ হলেন তানজিদ।
দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে বাংলাদেশ হারায় মুমিনুল হককে। ৪৯ রানে জশ হ্যাজেলউডের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। তবে আউট হওয়ার আগে তানজিদের সঙ্গে ১০২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে যান মুমিনুল। এই জুটিই বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দেয়। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুটি করে উইকেট নিয়ে মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউড। একটি করে উইকেট পেয়েছেন প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন।
ম্যাচের প্রথম দিনেই অস্ট্রেলিয়াকে বড় চাপে ফেলে বাংলাদেশ। পেসার হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকেরা। হাসান একাই নেন ৬ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একমাত্র উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ গড়েন স্টিভ স্মিথ। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৭১ রান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮/১০, ৫৩ ওভার (স্মিথ ৭১, হাসান মাহমুদ ৬/৫৫)।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ১১০ ওভারে ৩৫১/৬ (তানজিদ ১০১, নাজমুল ৮৪, মুমিনুল ৪৯, মুশফিক ৩৬, মিরাজ ৩২*, হাসান ১৩* ; স্টার্ক ২/৬৮, হ্যাজলউড ২/৬৮, কামিন্স ১/৫০)।
* দ্বিতীয় দিন শেষে
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

