বিসিবির সবশেষ নির্বাচন ঘিরে উঠেছিল অনিয়মের অভিযোগ। এসব অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। পাঁচ সদস্যের এই তদন্ত কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এ প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে। এনএসসির এমন তদন্ত কমিটি গঠন উদ্বেগজনক বলে অ্যাখ্যা দিয়েছে বিসিবি। এ ঘটনায় বিসিবির ওপর আইসিসির নিষেধাজ্ঞা খড়গ আসতে পারে বলেও জানায় তারা।
গত পরশু রাতে এক বিবৃতিতে বিসিবি জানায়, সবশেষ নির্বাচন গঠনতন্ত্র মেনে নিয়মতান্ত্রিকভাবে হয়েছে। তবুও এনএসসির এমন তদন্ত কমিটি গঠন উদ্বেগজনক। এ ঘটনায় আইসিসি বাংলাদেশের সদস্যপদ স্থগিত করতে পারে বলেও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
বিষয়গুলো নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করতে চায় বলেও জানায় বিসিবি। তবে কবে নাগাদ আলোচনা করবে, সে বিষয়ে কিছু জানায়নি তারা।
বিসিবির এমন বিবৃতি ক্রিকেট মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ফারুক আহমেদ, নাজমুল আবেদিন ফাহিম ও আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিসিবিতে ঢোকার প্রক্রিয়া। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এনএসসির মনোনয়ন নিয়ে বিসিবিতে আসেন ফাহিম ও ফারুক। পরে ফারুক আহমেদক সরিয়ে আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে বিসিবিতে আনা হয়। এ প্রক্রিয়াতেও বিসিবিতে সরকারের হস্তক্ষেপ হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ নিয়ে বিসিবির সাবেক পরিচালক ও বর্তমানে বিদ্রোহী পক্ষে থাকা রফিকুল ইসলাম বাবু আমার দেশকে বলেন, ‘এ ধরনের বিবৃতিতে বিসিবির সবশেষ নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পথ সহজ করে দিয়েছে। ঠিকঠাকভাবে তদন্ত কমিটি গঠন হলে তাদের ভয় পাওয়ার কিছু থাকত না। ভয় পাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেই এখন আইসিসির ভয় দেখাচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনে কী হয়েছেÑসেটা আইসিসি বেশ ভালোভাবেই জানে। আর যেভাবে বুলবুল বিসিবিতে এসেছেন, সে প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা সম্ভব, যদি তারা এখন এনএসসির তদন্ত কমিটি নিয়ে প্রশ্ন তোলে।’
সব মিলিয়ে নির্বাচন নিয়ে বিরোধী অবস্থানে আছে সরকার ও বিসিবিÑএমনটাই মনে করেন বিসিবির সাবেক পরিচালক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলর সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘বিসিবি এনএসসির একটি অংশ। এনএসসির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিসিবি ভেঙে দিতে পারে। এটা বিসিবির গঠনতন্ত্রেও বলা আছে।’
বিসিবির বিবৃতি নিয়ে সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী বিসিবি চলে। তাদের গাইডলাইন অনুযায়ী সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারে না, এটা ঠিক। তবে কোনো অনিয়ম হলে সেটা তদন্ত করার অধিকার রাখে এনএসসি।’
তিনি আরো যোগ করেন, ‘দেশের আইনের ওপরে আইসিসির আইন নয়। দেশের ভেতরে সবকিছু দেশের আইন অনুযায়ী চলবে। এছাড়া আইসিসি এ নির্বাচন সম্পর্কে বেশ ভালোভাবেই জানে। ফলে আইসিসি এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না।’
এদিকে বিসিবি পরিচালক ফায়াজুর রহমান মিতু জানান, বিসিবির কোনো পরিচালকই এ ব্যাপারে জানেন না। তার ভাষ্যমতে, বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরো জানান, বুলবুল নিজের মতো করে এখন সব সিদ্ধান্ত নেন। ফলে আমরা এ সিদ্ধান্তকে বিসিবির সিদ্ধান্ত মনে করি না।
সব মিলিয়ে সরকারের তদন্ত করার এই সিদ্ধান্ত কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে বিশ্বাস করে বিদ্রোহী গ্রুপ। তাদের মতে, প্রথম দফায় আমিনুল ইসলাম বুলবুল যেভাবে বিসিবিতে এসেছেন, সে প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা সম্ভব। তাই তাদের বিশ্বাস, আইসিসির কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হবে না বলে মনে করেন তারা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

