আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

চাতরী-কেঁয়াগড় সড়কের কাজ ফেলে ঠিকাদার উধাও

উপজেলা প্রতিনিধি, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)

চাতরী-কেঁয়াগড় সড়কের কাজ ফেলে ঠিকাদার উধাও

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাতরী-কেঁয়াগড় সড়কের সংস্কার কাজ ফেলে ঠিকাদার উধাও হয়ে গেছে । ফলে তিন বছর ধরে দুর্ভোগে রয়েছে পাঁচ হাজার মানুষ। সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি করে কিছু অংশে খোয়া ফেলে রোলার করে চলে যায় ঠিকাদার। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, কেঁয়াগড় গ্রামের পাঁচ হাজার মানুষকে। সড়ক দ্রুত সংস্কার করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন এলাকাবাসী।

জানা যায়, উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের কেঁয়াগড় গ্রামের মানুষের একমাত্র চলাচলের সড়ক এটি। সড়ক গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিগত ২০-২৫ বছর ধরে কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকার পর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ ২০২২ সালে সড়কের সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। উপজেলা প্রকৌশল অফিসের তথ্যমতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে চাতরী-কেঁয়াগড় সড়কটির সংস্কারের জন্য ৮৭ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। পরে টেন্ডারের মাধ্যমে সড়কের সংস্কারের দায়িত্ব পায় চ্যাম্পিয়ন নামের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ।

এ সময় সড়কের কিছু অংশ কাজ করে উধাও হয়ে যায় ঠিকাদার। দীর্ঘ তিন বছর ধরে বন্ধ রয়েছে সড়কের কাজ । ২ হাজার ৬০০ ফুট সড়কের প্রায় ১ হাজার ৬০০ ফুট পর্যন্ত ইটের খোয়া ফেলে কাজ করে বাকি অংশ খুঁড়ে রেখে উধাও হয়ে যায় ঠিকাদার।

দীর্ঘদিন কাজ না করে ফেলে রাখায় সড়কের এখন নাজুক অবস্থা । শীতকালে পথচারী ও সড়কের পাশে বসতবাড়ির লোকজন ধুলোবালিতে নাস্তানাবুদ হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে জোয়ার ও বৃষ্টি হলে কাদায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে সড়ক। অন্যদিকে খোয়া ফেলা অংশে জোয়ারের পানিতে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।

‎স্থানীয় ইউপি সদস্য বিকাশ ঘোষ জানান, সড়কের দুর্ভোগ নিয়ে কয়েকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে। তিন বছর আগে সড়কের কার্পেটিং ও কিছু অংশ আর সিসি করার টেন্ডার হয়েছিল।

হঠাৎ কাজ ফেলে পালিয়ে যায় ঠিকাদার। নতুন করে টেন্ডারের জন্য আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু হলে জনগণের দুর্ভোগ লাঘব হবে।

জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা প্রকৌশলী জাহেদুল আলম চৌধুরী বলেন, সড়কে নতুন করে সংস্কারের জন্য ৮৭ লাখ টাকা বাজেট হয়েছিল। তখন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কাজ শুরু করে হঠাৎ কাজ ফেলে চলে যায়।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার জানান, স্থানীয়দের অভিযোগ পেয়ে সড়কে পরিদর্শন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। বর্ষাকালের আগে অনুমোদন না পেলে চলাচলের উপযোগী করতে জরুরি বরাদ্দ থেকে সড়কের সংস্কার কাজ করা হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন