সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল। শুক্রবার সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট মোহবুল্লাহ কলেজ মাঠে ছাত্র-যুব গণজমায়েতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দুর্নীতি, অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে রাষ্ট্রের স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়েছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। একই সঙ্গে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্র সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কারের মধ্য দিয়ে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক, নিরাপদ, মানবিক ও বসবাসযোগ্য নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, বিদ্যুতের বেহাল অবস্থা। বিদ্যুৎ যায় নাকি বিদ্যুৎ আসে বোঝা বড় মুশকিল হয়ে গেছে। এই সরকার ১৮০ দিনে এক কোটি কর্মসংস্থান করার কথা বলেছিল। কর্মসংস্থান কোথায় গেছে, আল্লাহ জানেন। ৬২ হাজার চাকরিজীবী তাদের চাকরি হারিয়েছেন। ৪১টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নষ্ট হয়েছে। এগুলো মেরামত করে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে পারছে না সরকার। দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
জ্বালানি ও দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, তেল-গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং দফায় দফায় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে মানুষের জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। আমি একটি রাস্তা দেখতে গিয়েছিলাম, যেখানে ১০ মিনিট বৃষ্টি হলেই হাঁটুসমান পানি হয়ে যায়। মানুষ এসে বলেছেন, ‘এই রাস্তায় বৃষ্টির মধ্যে আমরা হেঁটে যেতে পারি, কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই, তেল নেই, গ্যাস নেই। এই বেহাল অবস্থা থেকে আমাদের রক্ষা করুন। দুর্নীতি, অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনার কারণেই রাষ্ট্রের এই অবস্থা হয়েছে।
অতীতের সরকারের সমালোচনা করে বুলবুল বলেন, স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার আমলে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অব্যবস্থাপনা ও লুটপাটের কারণে দেশের স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতি বন্ধ করাকে ১ নম্বর পদক্ষেপ হিসেবে নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত দুর্নীতি নিয়ে তাদের কোনো বক্তব্য নেই।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ করে তিনি বলেন, দরকার ছিল যেকোনো মূল্যে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করে জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসাকে অগ্রাধিকার দেওয়া। তারা এটা করতে পারেনি। তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করতে যত টাকা প্রয়োজন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তত টাকা বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন ছিল। সেটিও তারা করেনি। কী করেছে? কার্ড! এই কার্ডের মাধ্যমে চক্রাকারে ইনকাম রয়েছে। এজন্য কার্ডের ব্যবস্থা করেছেন। সস্তা রাজনীতি করতে গিয়ে ১৮০ দিনে এ সরকার সবকিছু লেজেগোবরে করে ফেলেছে।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, আপনারা লক্ষ্য করেছেন, আমাদের সীমান্তবর্তী এলাকায় উত্তেজনা তৈরি করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় অন্যায়ভাবে পুশইনের মধ্য দিয়ে ভারতে থাকা মুসলমান ও বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে আমাদের দেশে পাঠিয়ে দিয়ে দেশের ওপর অর্থনৈতিক বোঝা চাপিয়ে দিতে চাওয়া হচ্ছে। সীমান্তে মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে। নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শক্তভাবে যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার ছিল, বর্তমান সরকার এখন পর্যন্ত সে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি।
নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, আমরা নতুন বাংলাদেশ চাই, আমরা রাষ্ট্রের সংস্কার চাই, আমরা জনগণের অধিকার চাই। আমরা নিরাপদ, বসবাসযোগ্য ও মানবিক বাংলাদেশ চাই। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ, বসবাসযোগ্য ও মানবিক বাংলাদেশ এবং সংবিধান সংস্কারের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাই।
উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শামসুদ্দিন আলকেশের সভাপতিত্বে গণজমায়েতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. মু. মিজানুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবুজার গিফারী এবং জেলা ছাত্রশিবির পূর্ব শাখার সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

