বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনকে কেন্দ্র করে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় দলটির দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে দুই সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন।
বুধবার বিকেলে দাগনভূঞা পৌর শহরের আতাতুর্ক স্কুল মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও বিবাদমান দুই পক্ষের সূত্র জানায়, সকাল থেকেই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন ও সাবেক জেলা ছাত্রদল নেতা কাজী জামসেদুর রহমান ফটিকের গ্রুপের মধ্যে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
এ ঘটনায় পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। বিকেলে বিবাদমান আকবর গ্রুপের নেতাকর্মীরা স্থানীয় আতাতুর্ক স্কুল মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা শেষ করে বের হওয়ার সময় প্রতিপক্ষ ফটিক গ্রুপের লোকজন ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলে ধাওয়া দিয়ে বোতল ছুড়তে থাকে।
এ সময় অপর পক্ষ থেকে জুতা ছুড়ে মারা হলে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে এক পক্ষ অপর পক্ষের ওপর বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে সাখাওয়াত হোসেন টিপু ও ফখরুল ইসলাম নামে দুই সংবাদকর্মীসহ আকবর গ্রুপের ৩৫-৪০ জন এবং ফটিক গ্রুপের ১০-১২ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। হামলার জন্য আকবর ও ফটিক গ্রুপ একে অপরকে দায়ী করেছেন।
জেলা ছাত্রদলের সাবেক বহিষ্কৃত সহসভাপতি জামশেদুর রহমান ফটিক আমার দেশকে বলেন, র্যালি নিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষ হামলা করলে তার লোকজন উত্তেজিত হয়ে উঠলে তিনি তাদের নিবৃত্ত করেন। এতে তার গ্রুপের নাইমুর রহমান, রিয়াজ, হুমায়ুন আহমদ, রাব্বি, রায়হানসহ অন্তত ১০-১২ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে রাব্বি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা শেষে বের হওয়ার সময় বহিষ্কৃত ফটিকের নেতৃত্বে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এতে তার স্ত্রী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শাহিন আকবর, পৌর যুবদলের সদস্যসচিব ইকবাল সুজন, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মানিক, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নিজাম হায়দার, উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক আহ্বায়ক এম সাইফুল ইসলাম দুলালসহ তাদের পক্ষের ৩৫-৪০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফয়জুল আজিম নোমান জানান, সংঘর্ষের আশঙ্কায় সকাল থেকেই বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। এরপরো দুই পক্ষ একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

