বিসিবি সভাপতি পদে আমিনুল ইসলাম বুলবুল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই যেন থমকে আছে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট। সবশেষ নির্বাচনের আগে তিন মাসের জন্য বিসিবি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। পরে নির্বাচন করে ফের বিসিবি সভাপতি পদে বসেন। আগের মেয়াদে সভাপতি থাকাকালীন মাঠে গড়ানোর কথা ছিল ২০২৫-২৬ ক্রিকেট মৌসুম। তবে নানা কারণে নির্ধারিত সময়ে মাঠে গড়ায়নি লিগ। সাধারণত সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট মাঠে নামানোর কথা থাকলেও তা শুরু হয়নি। পরে লিগ মাঠে গড়ালেও সেখানে ছিল না সব ক্লাবের উপস্থিতি। সব মিলিয়ে ক্রিকেটাররা হতাশ বিসিবির এমন আচরণে।
সাধারণত সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে মাঠে গড়ায় ঢাকার ক্রিকেট লিগ। পাশাপাশি শুরু বিসিবির নিজস্ব টুর্নামেন্টগুলো। নির্বাচনের ডামাডোলে ঢাকার ক্রিকেট লিগ নির্ধারিত সময়ে মাঠে গড়ায়নি। এর মধ্যে বাধা হয়ে আসে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ। সেই অভিযোগ করা ক্লাবগুলো বয়কট করে বসে ঢাকার অধিকাংশ ক্লাব। ফলে লিগ নিয়ে শুরু হয় দোলাচল। বারবারই বিসিবি থেকে বলা হয়েছিল, খানিকটা দেরিতে হলেও মাঠে গড়াবে লিগ। তাদের কথামতো লিগ গড়ালেও, সবগুলো দলের অংশগ্রহণ ছিল না। ফলে বেশির ভাগ ক্রিকেটারেরই খেলা হয়নি লিগ।
সাধারণত তৃতীয় বিভাগ লিগ দিয়ে শুরু হয় ঢাকা লিগ। এবার ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রথম বিভাগ দিয়ে ঢাকা লিগ শুরুর সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। সেখানে ২৪ দলের মধ্যে অংশ নেয় ১২ দল। বাকি ১২ ক্লাব বয়কট করে লিগ। তাতে বেশির ভাগ ক্রিকেটারের খেলা হয়নি প্রথম বিভাগে। বিকল্প হিসেবে তাদের জন্য বিশেষ সিসিডিএম কাপ আয়োজন করে বিসিবি।
পরে দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগ আয়োজন করে বিসিবি। সেখানেও বয়কটকারী ক্লাবগুলো খেলতে আসেনি। তাতে বয়কটকারী ক্লাবগুলোতে নাম লেখানো ক্রিকেটারদের ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি। তাদের জন্য বিশেষ কোনো লিগ আয়োজনের সিদ্ধান্তও নেয়নি বিসিবি। এমনকি তৃতীয় বিভাগ ও প্রিমিয়ার লিগ আয়োজন নিয়েও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি বিসিবি। আজ বিসিবিতে তৃতীয় বিভাগ লিগের বৈঠক আয়োজিত হবে। ধারণা করা হচ্ছে, এখানে অংশ নেবে মাত্র ৫ ক্লাব। বাকি ১৯ ক্লাব বর্তমান বোর্ডের অধীনে ক্রিকেট বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। ফলে তাদের এই বৈঠকে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। পাশাপাশি প্রিমিয়ার লিগের ১২ দলের মধ্যে তিন দলের অংশ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ বাকি ৯ দল আছে বয়কটকারীদের পক্ষে। প্রিমিয়ার লিগের এই বৈঠক আয়োজিত হবে আগামী ৮ এপ্রিল।
বছরজুড়ে ক্রিকেটাররা অপেক্ষায় থাকেন ঢাকা লিগ খেলার জন্য। তাদের পুরো বছরের আয়ের সিংহভাগই আসে ঢাকা লিগ থেকে। ঢাকা লিগ ঠিকমতো মাঠে না গড়ানোয় ক্রিকেটারদের জীবন তাই এখন সংকটাপন্ন। ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব ইতোমধ্যে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও ঢাকা লিগের আয়োজক সিসিডিএমকে চিঠি দিয়েছে লিগ আয়োজন করতে। কোয়াব চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে খেলা মাঠে গড়ানোতে ভূমিকা রাখতে। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের সেই চেষ্টা সফল হবে কি না সেটা বলাটা কঠিন। বয়কটের ঘোষণা দেওয়া ক্লাব ও বিসিবির মধ্যকার দ্বন্দ্বে সেটা একরকম অসম্ভবই বলা যায়।
এসব নিয়ে একাধিক ক্রিকেটার ইতোমধ্যে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি ক্লাব-বিসিবি দ্বন্দ্ব মিটিয়ে খেলা মাঠে ফেরানোর দাবিও জানান তারা।
জাতীয় দলের ক্রিকেটার জাকের আলী অনিক তার ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘আগে আমরা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলতাম।’ আরেক ক্রিকেটার মঈন খান বলেন, ‘আচ্ছা আমরা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ কবে খেলব? বিগত সময়গুলোয় ঈদের পরে সুপার লিগ খেলতাম। কিন্তু এবার তো কোনো সম্ভাব্য তারিখও জানলাম না।’
ঢাকা লিগে নিয়মিত কোচিং করানো কোচ রাজিন সালেহ লেখেন, ‘ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ পাটা এবং পুতার মাঝখানে পরে খেলোয়াড়-কোচ যেন ভর্তা না হয়ে যায়।’
ঢাকা লিগ নিয়ে যখন এমন বাস্তবতা, তখন বিসিবি নিজস্ব টুর্নামেন্টগুলোও বলা যায় ঠিকমতো আয়োজন করতে পারেনি। জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) ফার্স্ট ক্লাস ও টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট ঠিক সময়ে মাঠে নামায় বিসিবি। পরে বিসিএল নিয়ে তৈরি হয় নানা জটিলতা। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে হুট করেই মাঠে নামানো হয় বিসিএল ওয়ানডে সংস্করণের টুর্নামেন্ট। পাশাপাশি একই কারণ বিবেচনায় আগামী ১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হবে বিসিএল ফার্স্ট ক্লাস টুর্নামেন্ট। এ নিয়েও হতাশ নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা ক্রিকেটাররা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ক্রিকেটার বারবারই এসব নিয়ে অভিযোগ করেছেন। তাদের মতে, জাতীয় দলের চিন্তা করতে গিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা ক্রিকেটারদের নিয়ে কোনো চিন্তা করারই সুযোগ পাচ্ছেন না বিসিবি কর্তারা। যেটার প্রভাব পড়েছে বন্ধ হয়ে পড়া ঘরোয়া ক্রিকেট সচল না হওয়া দেখে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

