টানা তিন টুর্নামেন্টে ক্ষতি গুনেছে বিসিবি

আগের দুই বিপিএলে মিথ্যাচার হয়েছে

স্পোর্টস রিপোর্টার

আগের দুই বিপিএলে মিথ্যাচার হয়েছে

বিপিএলের সবশেষ দুই আসর (১১তম ও ১২তম) নিয়ে হয়েছে একের পর এক বিতর্ক। দুটি ভিন্ন ভিন্ন বোর্ডের অধীনে হয়েছে শেষ দুই বিপিএল। ১১তম আসরের সময় সভাপতি ছিলেন ফারুক আহমেদ আর ১২তম আসরের সময় ছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। বোর্ড বদল হলেও বিপিএল নিয়ে বিতর্ক থেমে থামেনি। খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক ইস্যু তো আছেই, লাভ-ক্ষতি নিয়ে মিথ্যাচারও কম করেনি আগের দুই বোর্ড। খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক, বিপিএল আয়োজন করে লাভ করা এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি বাছাই ও ব্যাংক গ্যারান্টি নিয়ে একের পর এক মিথ্যাচার করেছে এই দুই বোর্ড। সেটাই প্রমাণ করেছেন বিসিবির বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবাল। বৃহস্পতিবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়গুলো তুলে ধরেন তিনি। বিসিবির আগের হিসাবে কাগজপত্র ঘেঁটে অনেক মিথ্যাচারের প্রমাণ পেয়েছেন তিনি।

বিপিএলের গত আসরে হয়েছে সবচেয়ে বেশি মিথ্যাচার। ১২তম আসরের জন্য দল চূড়ান্ত করার সময় বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু বলেছিলেন, ‘চারটি টিমের কাছ থেকে আমরা ব্যাংক গ্যারান্টিসহ সবকিছু পেয়েছি। অডিট ফার্ম দিয়ে চেক করা হয়েছে। সব মিলিয়ে চ্যালেঞ্জিং, কিন্তু আমরা ব্যাংক গ্যারান্টি ছাড়া দিচ্ছি না।’ এ কথাটি তিনি বলেছিলেন বিপিএলের দলগুলোর ব্যাংক গ্যারান্টি নিয়ে। তার এ কথায় স্পষ্ট দলগুলো ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে তবেই বিপিএলে খেলতে এসেছিল। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। গত পরশু সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবাল জানান, দুটি দল ছাড়া আর কেউ ব্যাংক গ্যারান্টি দেয়নি।

বিজ্ঞাপন

এদের মধ্যে রংপুর রাইডার্স পুরো ১০ কোটি এবং ঢাকা ক্যাপিটালস অর্ধেক অর্থাৎ ৫ কোটি টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়েছে। বাকি দলগুলো পে-অর্ডার ও চেকের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়েছিল বিসিবিতে। অথচ কথা ছিল সবাই দেবে ব্যাংক গ্যারান্টি। পে-অর্ডার ব্যাংকের এটি হতে পারে কিন্তু চেক কখনোই ব্যাংক গ্যারান্টির উপকরণ নয়Ñসেটা তো সবাই জানে। সে সময় বিসিবিতে থাকা পরিচালকরাও এ সত্যটি জানতেন। তবু তারা ব্যাংক গ্যারান্টির বদলে চেকের মাধ্যমেই ফ্র্যাঞ্চাইজি বরাদ্দ দিয়েছিলেন। যার ফলে যেসব দলের ক্রিকেটাররা পারিশ্রমিক পাননি, ব্যাংক গ্যারান্টি ভাঙিয়ে তাদের পারিশ্রমিক পরিশোধ করতে পারছে না বিসিবি।

এ নিয়ে সমালোচনা করে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল বলেন, ‘এত টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি না দিলে টিম দেওয়া হবে না। আমরা এ বিষয়টি ভালোভাবে চেক করেছি কে কী দিয়েছে। একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি বাদে বাকি যারা ছিল, এ বিষয়টি কেউই মানেনি। ব্যাংক গ্যারান্টি যখন আমরা বলি, একটি চেক যদি বিসিবিকে দেওয়া হয় সেটি ব্যাংক গ্যারান্টি হিসেবে বিবেচিত হয় না। চেক হলো চেক, ব্যাংক গ্যারান্টি হলো ব্যাংক গ্যারান্টি। এই প্রক্রিয়াটি কিন্তু কোনোভাবেই বেশিরভাগ টিম মানেনি।’

গত বিপিএলের এই বড় ইস্যুর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল ১১তম আসরের ফিক্সিং কাণ্ডও। সেবার ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল দুর্বার রাজশাহীর বিরুদ্ধে। এমনকি দলটির বিরুদ্ধে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক না দেওয়ার অভিযোগ তো আছেই। সে কারণে ক্রিকেটারদের অনুশীলন বয়কট, বিদেশি ক্রিকেটারদের ম্যাচ না খেলানোর অভিযোগ তো আছেই। অথচ ১১তম আসরের আগে বিসিবি সভাপতি হিসেবে থাকা ফারুক আহমেদ জানিয়েছিলেন, যাচাই-বাছাই করে দল দেওয়া হয়েছিল।

এ নিয়ে তামিম ইকবাল বলেন, ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যারা দায়িত্বে থাকেন, তারা যখন নিজেদের নিয়ম ভেঙে… ওটা কি বন্ধুত্বপূর্ণ (ফ্র্যাঞ্চাইজি দেওয়া) না অন্য কিছু, আমি তো এটা বলতে পারছি না। কিন্তু তাদের যখন ফ্র্যাঞ্চাইজি দেন, তখন কিন্তু তারা নিজেরাই বিসিবির নিয়ম ভাঙছে।’

যদিও বিপিএলের ১১তম আসর শেষে ফারুক আহমেদ ফ্র্যাঞ্চাইজি দেওয়া প্রসঙ্গে ভুল হয়েছিল বলে স্বীকার করেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা যথেষ্ট ভালোভাবে বিচার-বিবেচনা করিনি এই ফ্র্যাঞ্চাইজি নেওয়ার ক্ষেত্রে। তাদের আর্থিক সক্ষমতা, অভিজ্ঞতার ব্যাপারে, যতটুকু হিসাব-নিকাশ করা দরকার ছিল, এ বিষয়গুলো যথাযথ যাচাই-বাছাই না করে বোধহয় তাদের অন্তর্ভুক্ত করেছি। যার ফলে এমন একটি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।’

এছাড়া গত তিন আসরে বিপিএল থেকে কোনো ধরনের লাভই করতে পারেনি বিসিবি; বরং পরিণত হয়েছিল লস প্রজেক্টে। গত তিন আসরে যথাক্রমে সাড়ে ৬ কোটি (১০ম আসর), ১৪ কোটি (১১তম আসর) এবং প্রায় ২০ কোটি টাকা (১২তম আসর) ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে বিসিবি, যার মোট পরিমাণ প্রায় ৪০ কোটি টাকা। যদিও ১১তম আসর শেষে তখনকার বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ টিকিট বিক্রি থেকে লাভ হওয়ার ব্যাপারটি গণমাধ্যমে জানিয়েছিলেন।

এভাবেই গত দুই আসর নিয়ে সবার সামনে একের পর এক মিথ্যাচার করে গেছে বিসিবির সাবেক দুই সভাপতি!

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন