হত্যা মামলার আসামিদের ফুলেল সংবর্ধনায় এমপি খোকন

হত্যা মামলার আসামিদের ফুলেল সংবর্ধনায় এমপি খোকন

নরসিংদী সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমির সরকার হত্যা মামলার দুই আসামির কাছ থেকে ফুলেল সংবর্ধনা নিয়েছেন নরসিংদী-১ (সদর) আসনের এমপি খায়রুল কবির খোকন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জব্বার মিয়ার একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে খায়রুল কবির খোকনের সঙ্গে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই পারিবারিক অনুষ্ঠানের আয়োজক জব্বার মিয়া নিজেও নিহত ইউপি সদস্য আমির সরকার হত্যাসহ মোট ৪টি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মারধরসহ নানা অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

অনুষ্ঠানের একটি ছবিতে দেখা যায়, আলোকবালী উত্তরপাড়ার হাসান মিয়ার ছেলে খোকন মিয়া এবং জালাল মিয়ার ছেলে তারা মিয়া সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। এই খোকন মিয়া ও তারা মিয়া দুজনেই ইউপি সদস্য আমির সরকার হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

মামলার নথি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বছরের ২২ এপ্রিল আলোকবালীতে ইউপি সদস্য আমির সরকারকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে তারা মিয়া ও খোকন মিয়াসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় হত্যা মামলা করা হয়। পুলিশ এ মামলার আসামিদের দীর্ঘদিন ধরে কাগজপত্রে ‘পলাতক’ হিসেবে দেখিয়ে আসছে।

তবে নথিতে পলাতক থাকা আসামিরা কীভাবে কোনো ভয়ডর ছাড়া প্রকাশ্যে রাজনৈতিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যকে ফুলেল সংবর্ধনা দিলেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মনে তীব্র প্রশ্ন ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন—এমপি কি তবে অপরাধীদের আশ্রয়দাতা হচ্ছেন? কিংবা নতুন অপরাধের সহায়ক ভূমিকা পালন করছেন? কীভাবে নৃশংস একটি হত্যাকাণ্ডের আসামিরা আইনের তোয়াক্কা না করে বীরদর্পে ঘুরে বেড়ান এবং এমপির সান্নিধ্য পান, তা নিয়ে তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নরসিংদী সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সরকার বলেন, জব্বার মিয়া আমির সরকার হত্যা মামলার আসামি কি না তা আমার জানা নেই। আমি দাওয়াতে গিয়েছিলাম তবে জব্বারকে চিনি না। এমপি সাহেবকে যারা ফুল দিয়েছেন তারাও আসামি কি না আমার জানা নেই। তবে ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কাইয়ুম মিয়া কাজটি ঠিক করেননি। এভাবে এমপি সাহেবকে বিতর্কিত করা মোটেই সঠিক হয়নি। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে ব্যাপারে কাইয়ুমকে সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন