পাটের ন্যায্যমূল্য পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি

পাটের ন্যায্যমূল্য পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি
ফিরেছে সোনালি আঁশের সুদিন, তাই এভাবেই পাট শুকাচ্ছেন কৃষক। আমার দেশ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে দীর্ঘদিন পর পাটের ন্যায্যমূল্য পেয়ে পাট চাষে আগ্রহ বেড়েছে এলাকার কৃষকদের। একসময় উপর্যুপরি লোকসানের ভয়ে পাটের চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন তারা। চলতি বছর শাহজাদপুর উপজেলায় পাটের আশাতীত ফলনের পাশাপাশি বাজারে ভালো দাম পাওয়ায়, চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। সোনালি আঁশের সুদিন ফিরে আসায়, পাটের চাষ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে এলাকার কৃষকেরা। ফলে পাট চাষে উপজেলার কৃষকদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলায় পৌরসভাসহ ১৩টি ইউনিয়নে মোট ৪১৮ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে দেশি, মেছতা, কেনাফ, জেআরও-৫২৪, সবুজ সোনা, বারি-১ এবং রবি-১ জাতের পাট আবাদ করা হয়েছে। সূত্রমতে, চলতি বছর প্রতি বিঘা জমিতে ১০ থেকে ১২ মণ পাট উৎপাদন হয়েছে । অন্যদিকে বিঘাপ্রতি জমিতে পাট চাষে উৎপাদন ব্যয় হয়েছে ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা। জানা যায়, বর্তমানে উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী হাটবাজারে মান অনুপাতে নতুন পাট বিঘাপ্রতি ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত শুকানো পাটকাঠি বিঘাপ্রতি ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে । উপজেলার পাড়কোলা গ্রামের কৃষক আব্দুল আলিম বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শে দীর্ঘদিন পর চলতি বছর তিনি পাটচাষ করেছেন। ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে বিক্রি করে দাম ভালো পেয়েছি। গাড়াদহ গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ জানান, এ বছরে তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে পাটচাষ করেছেন। অপরদিকে খামারশালিনা গ্রামের কৃষক ইয়াকুব আলী জানান, তিনি চলতি বছর চার বিঘা জমিতে পাটের চাষ করেছেন। ইতোমধ্যেই তিনি দুই বিঘা জমির পাট প্রতি মণ ৩ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। তিনি জানান, তার চার বিঘা জমিতে বিঘাপ্রতি গড়ে ১১ মণ করে পাট উৎপাদন হয়েছে। অন্যদিকে একই গ্রামের কৃষক দুলাল সরকার জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে পাটের চাষ করেছেন। দুই বিঘা জমিতে উৎপাদিত ২০ মণ পাট গড়ে ৪ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছেন। রূপবাটি ইউনিয়নের কৃষক আবুল কালাম জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে পাটের চাষ করেছেন। তিনি জানান, এলাকার অনেকেই পাট থেকে আঁশ ছাড়িয়ে শুকানোর কাজে ব্যস্ত রয়েছে। তিনি আরো জানান, বর্তমানে বাজারে মান অনুযায়ী প্রতি মণ পাট ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কৃষকেরা জানান, শুকানো পাটখড়ি প্রতি মণ গড়ে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায ঘুরে দেখা গেছে, খাল-বিল ও বন্যার পানিতে পাট জাগ দেওয়া, পাটের আঁশ ছাড়ানো, পাট ও পাটকাঠি শুকানো ও বিক্রি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় আশাতীত ফলন হওয়া এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন স্থানীয় চাষিরা।

এ বিষয়ে গত সোমবার উপজেলার কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চলতি বছর উপজেলায় ৪১৮ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ করা হয়েছে। তিনি জানান, পাট চাষে খরচ ও পরিশ্রম কম হলেও বেশি লাভবান হওয়া যায়। কৃষকদের পাট চাষে উদ্বুদ্ধ করতে চলতি বছর ১০০ জন কৃষকের মধ্যে বিনা মূল্যে বীজ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা কৃষকদের নানা ধরনের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছেন। তিনি আরো জানান, এ অঞ্চলের কৃষকেরা ধান ও সরিষা চাষের পর জমিগুলো পতিত ফেলে রাখতেন। এবার তাদের উদ্বুদ্ধ করায় পাটের চাষ করে তারা আশাতীত ফলন পেয়েছেন। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। আগামীতে এই উপজেলায় পাটের চাষ আরো বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন