ভ্যাঙ্কুভারে সালাহ ম্যাজিকে মুগ্ধ ফুটবল দুনিয়া

স্পোর্টস রিপোর্টার

ভ্যাঙ্কুভারে সালাহ ম্যাজিকে মুগ্ধ ফুটবল দুনিয়া

চিত্রনাট্যটি কোনো হলিউডের রোমাঞ্চকর ক্রীড়া সিনেমাকেও হার মানায়। কিন্তু ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে যা ঘটল, তা কোনো কল্পনা নয়—এক অবিশ্বাস্য বাস্তব। প্রায় এক শতাব্দীর দীর্ঘ প্রতীক্ষা, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে বেড়ানো হৃদয়ভাঙা আর দীর্ঘ নিশ্বাসের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল মিসর। একই সঙ্গে পৌঁছে গেল তারা বিশ্বমঞ্চের নকআউট পর্বের টিকিট কাটার দ্বারপ্রান্তে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে মিসরের পথচলা যেন এক ট্র্যাজেডির গল্প। ১৯৩৪ সালে ইতালিতে প্রথম আফ্রিকান ও আরব দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে পা রেখেছিল তারা। কিন্তু সেবার তাদের যাত্রা স্থায়িত্ব পেয়েছিল মাত্র একটি ম্যাচ। এরপর দীর্ঘ ৫৬ বছরের অপেক্ষার পর ১৯৯০ সালে ফের ইতালিতে তারা দ্বিতীয়বার বিশ্বমঞ্চে ফেরে; তিনটি ম্যাচ খেললেও জয়ের দেখা মেলেনি।
২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে মিসর যখন খেলতে যায়, তখন তাদের দলে ছিলেন ‘মিসরীয় রাজা’ মোহাম্মদ সালাহ। সালাহ নিজে দুটি গোল করলেও ভাগ্য বদলায়নি ফারাওদের; তিনটি ম্যাচেই হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।
এরপর কেটে গেছে আরো আটটি বছর। লিভারপুলের হয়ে এক ক্লান্তিকর ও কঠিন মৌসুম পার করে অ্যানফিল্ড ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন সালাহ। সেই মানসিক ও শারীরিক ধকল নিয়েই আবারও পা রাখেন ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে। প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে জানপ্রাণ লড়েও দুর্ভাগ্যের এক আত্মঘাতী গোলে জয় হাতছাড়া হয় মিসরের। সালাহও সে ম্যাচে গোলবঞ্চিত হন।
কিন্তু গতকাল সোমবার সকালে ভ্যাঙ্কুভারে সালাহ মাঠে নেমেছিলেন এক ভিন্ন মিশন নিয়ে। রেড জার্সিতে যে জাদুকরী সালাহকে দেখতে ফুটবলবিশ্ব অভ্যস্ত, ঠিক সেই চেনা রূপেই দেখা দিলেন মিসরীয় ফুটবল রাজপুত্র। ম্যাচের একপর্যায়ে দল পিছিয়ে পড়লেও দমে যাননি এই ফারাও যুবরাজ। নিজের কাঁধে টেনে নিলেন পুরো দলকে। অসাধারণ এক গোল এবং দুর্দান্ত এক অ্যাসিস্টে দলকে এনে দিলেন ৩-১ ব্যবধানের এক অবিস্মরণীয় জয়।
ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত সালাহ বলেন, ‘ভবিষ্যতে এই দিনটিকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে স্মরণ হয়ে থাকবে। মনে হচ্ছিল আমরা যেন মিসরেই খেলছি। এটি একটি দুর্দান্ত জয় এবং অসাধারণ এক অনুভূতি।’
আগামী শনিবার সকালে ইরানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মাঠে নামার আগে মিসরের কাঁধ থেকে নেমে গেছে প্রায় এক শতাব্দীর বিশাল এক বোঝা। ফারাওরা অবশেষে জেগে উঠেছে, তাতেই ইতিহাস গড়েছে মিসর।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন