ইসরাইলের সামরিক শিল্পে সাইবার হামলা, অচল নোভামিল

ইসরাইলের সামরিক শিল্পে সাইবার হামলা, অচল নোভামিল

ইসরাইলের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নোভামিল সিস্টেমস লিমিটেডের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে সফলভাবে ঢুকে পড়ার দাবি করেছে ‘সাইবার সাপোর্ট ফ্রন্ট’ নামে একটি ইসরায়েলবিরোধী হ্যাকার গোষ্ঠী।

গোষ্ঠীটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের সর্বশেষ অভিযানে নোভামিলের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামগুলো কার্যক্রম থেকে সরিয়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কার্যত অচল করে দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

‘সাইবার সাপোর্ট ফ্রন্ট’ গত বছর আত্মপ্রকাশ করে। সে সময় গোষ্ঠীটি জানিয়েছিল, ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করাই তাদের লক্ষ্য।

বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, নোভামিল ইসরাইলের যন্ত্রাংশ সংযোজন, সংবেদনশীল ও অত্যন্ত নিখুঁত যন্ত্রাংশ তৈরি এবং রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে অন্যতম বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ শিল্পের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও তাদের ব্যাপক সহযোগিতা রয়েছে।

নোভামিল যুদ্ধবিমান ও বিভিন্ন সামরিক ব্যবস্থার জন্য নিখুঁত যন্ত্রাংশ তৈরি করে। এ ছাড়া উন্নত সামরিক ব্যবস্থার জন্য বিভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিক-যান্ত্রিক ও অপটিক্যাল-যান্ত্রিক যন্ত্রাংশ সংযোজনের কাজও করে প্রতিষ্ঠানটি। এসব ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নাইট ভিশন, থার্মাল ক্যামেরা ও লক্ষ্য নির্ধারণের প্রযুক্তি।

সাইবার সাপোর্ট ফ্রন্টের দাবি, গত ছয় মাসে তাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়া কয়েকটি দলের তৈরি নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা নোভামিলের কারখানার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে।

গোষ্ঠীটির ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে নোভামিলের প্রায় এক টেরাবাইট সংবেদনশীল ও গোপন তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কারখানার সব কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত নিখুঁত যন্ত্রপাতি (সিএনসি) ও নেটওয়ার্কের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা অচল করে দেওয়া হয়েছে। এতে কারখানাটির উৎপাদন সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।

‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে পরিচিত এই সাইবার গোষ্ঠী নোভামিলের কর্মীদের সতর্ক করে বলেছে, ‘আপনাদের ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য এখন আমাদের হাতে। এই প্রতিষ্ঠান আর আপনাদের জন্য নিরাপদ নয়। ইসরাইলের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা বন্ধ করুন এবং যত দ্রুত সম্ভব নিজেদের জীবন রক্ষা করুন। সুযোগ শেষ হয়ে আসছে, অনুশোচনা করার সময় থাকবে না।’

সাইবার সাপোর্ট ফ্রন্ট আরও দাবি করেছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে নোভামিলের সহযোগিতার বিষয়ে তারা যে বিপুল তথ্য সংগ্রহ করেছে, এটি তার সামান্য অংশমাত্র। এসব তথ্যের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে ইসরাইলের সামরিক খাতের ১০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোতে হামলা চালানোর দাবি করেছিল গোষ্ঠীটি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিজেডএমটি, ইমকো, মায়া ও কার্সোমেটালসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব হামলায় প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন লাইন অচল করে দেওয়ার দাবিও করেছিল তারা।

গোষ্ঠীটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ‘সাইবার অবরোধ’কে তাদের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করে আসছে। নোভামিলের বিরুদ্ধে সর্বশেষ অভিযানকে সেই কৌশল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আরও একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে গোষ্ঠীটি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন