বিশ্বকাপে এমন সুযোগ বারবার আসে না। গোলরক্ষক প্রায় ছিটকে গেছেন, সামনে ফাঁকা পোস্ট, মাত্র কয়েক গজ দূরত্ব—এমন অবস্থায় গোল না হওয়াই যেন ছিল অসম্ভব। কিন্তু সেটিই করে দেখালেন সুইজারল্যান্ডের ফাবিয়ান রাইডার। আলজেরিয়ার বিপক্ষে তার অবিশ্বাস্য গোলমিস এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম—সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। অনেকেই ইতোমধ্যে এটিকে ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম বড় গোলমিস বলছেন।
ভ্যাঙ্কুভারে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করা ম্যাচে সুইজারল্যান্ড ২-০ গোলে হারায় আলজেরিয়াকে। ব্রিল এমবোলো ও ড্যান এনদোয়ের গোলে জয় নিশ্চিত হলেও ম্যাচের শেষ দিকে ঘটে এমন একটি মুহূর্ত, যা হয়তো পুরো টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত দৃশ্য হয়ে থাকবে।
ম্যাচের শেষভাগে ডান দিক থেকে দারুণ একটি ক্রস আসে আলজেরিয়ার বক্সে। গোলরক্ষক লুকা জিদান বল ধরতে এগিয়ে এসে অবস্থান হারান। ঠিক তখনই ছোট বক্সে সম্পূর্ণ ফাঁকা অবস্থায় বল পান বদলি হিসেবে নামা রাইডার। সামনে কার্যত গোলরক্ষকহীন পোস্ট, কিন্তু হিল দিয়ে নেওয়া তার শট সরাসরি চলে যায় ফিরে আসা জিদানের হাতেই। গোলের বদলে অবিশ্বাস আর হতাশাই সঙ্গী হয় সুইস মিডফিল্ডারের।
ব্রাজিলের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবো এসপোর্তে এই ঘটনাকে শিরোনাম করেছে "অবিশ্বাস্য ফুটবল ক্লাব"। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এত সহজ সুযোগ নষ্ট করে রাইডার বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের বিস্মিত করেছেন এবং মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে।
অবশ্য এই মিস সুইজারল্যান্ডের জন্য বড় কোনো ক্ষতির কারণ হয়নি। ম্যাচের শুরুতেই জোহান মানজাম্বির দুর্দান্ত দৌড়ে তৈরি সুযোগ থেকে এমবোলো গোল করেন। বিরতির পর আলজেরিয়ার রক্ষণভাগের ভুলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নটিংহ্যাম ফরেস্ট উইঙ্গার ড্যান এনদোয়ে। এরপর পুরো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রেখেই ৮৮ বছর পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় তুলে নেয় সুইজারল্যান্ড।
রাইডারের গোলমিস তাই ফলাফলে প্রভাব না ফেললেও, বিশ্বকাপের স্মরণীয় মুহূর্তের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে নিশ্চিতভাবেই। গোলরক্ষকহীন পোস্টে দাঁড়িয়ে এমন সুযোগ হাতছাড়া করার ঘটনা ফুটবল ইতিহাসে খুব বেশি দেখা যায় না। আর সে কারণেই ২০২৬ বিশ্বকাপের "মিস অব দ্য টুর্নামেন্ট" বিতর্কে ফাবিয়ান রাইডারের নাম এখন সবার আগে উচ্চারিত হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

