সিংগাইরে আখের বাম্পার ফলন

বিক্রির সম্ভাবনা ৩১ কোটি টাকার, ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

বিক্রির সম্ভাবনা ৩১ কোটি টাকার, ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় এখন আখ কাটার ভরা মৌসুম। উপজেলার মাঠজুড়ে শোভা পাচ্ছে সবুজ-হলুদ আখের সারি। কোথাও কৃষক-শ্রমিক ব্যস্ত আখ কাটতে, কোথাও চলছে আঁটি বাঁধার কাজ। ট্রাক ও বিভিন্ন যানবাহনে তুলে এসব আখ যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে ও চিনি তৈরির কারখানায়।

অনুকূল আবহাওয়া ও আখ চাষের উপযোগী মাটি থাকায় এ বছর আখের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। তবে উৎপাদন ভালো হলেও বাড়তি খরচ, শ্রমিক সংকট, যানবাহনে অধিক ব্যয় ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সিংগাইরে প্রায় ২৯৮ হেক্টর জমিতে আখ আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৮ হেক্টর বেশি। এ মৌসুমে প্রায় ৩১ কোটি টাকার আখ বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আখ আবাদ হলেও সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে বায়রা ইউনিয়নে। এছাড়া বলধারা, জামশা, চারিগ্রাম, তালেবপুর ও সিংগাইর সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়ও আখ চাষ হয়েছে।

আখ চাষের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন প্রায় এক হাজার কৃষক। সিংগাইরে রংবিলাস, গেন্ডারি, সুইং, বোম্বে, কুশুল, চানপুরা, নলঠেঙ্গা ও সাতাইশ জাতের আখ চাষ করা হয় ।

বায়রা ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের আখচাষি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এ বছর আমি ১০ বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমানে এক বিঘা আখ ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’

শিবপুর গ্রামের আখচাষি মো. ইউনুছ নূরুল হক বলেন, ‘আখ চাষে লাভ আছে। কিন্তু অনেক সময় আমরা সঠিক দাম পাই না। ’

জামশার আখচাষি মুনছের অভিযোগ করে বলেন, মাঠ থেকে একটি আখ ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হলেও সেটিই বিভিন্ন হাত ঘুরে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে ৭০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

সদাগর নামে এক কৃষক বলেন, ‘বীজ, সার ও কীটনাশকের দাম বেশি। এগুলোর দাম কিছুটা কমানো গেলে উৎপাদন খরচ কমবে। তখন কৃষকের লাভও বাড়বে, আখের আবাদও বাড়বে।’

তবে আখ ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমরা কৃষকের কাছ থেকে মাঠে আখ কিনে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠাই। পরিবহন, শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ রয়েছে। সব খরচ বাদ দিয়ে ব্যবসায়ীরা সামান্য লাভ করেন।’

এদিকে আখ কাটার মৌসুমে প্রতি হাজার আখ কাটায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। এতে একজন শ্রমিক গড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা মজুরি পান।

সিংগাইর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কিশোর আহমেদ বলেন, অনুকূল আবহাওয়া ও উর্বর দোআঁশ মাটির কারণে এ বছর আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। ‘আখ চাষে কৃষকদের অধিকতর পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। উদ্ভাবিত নতুন জাত কৃষকদের মধ্যে সম্প্রসারণেও উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন