বিশ্বমঞ্চে ফুটবলারদের গোল উদযাপন সাধারণত বাঁধভাঙা উল্লাসের প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখা হয়। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে সুইডেনের ৫-১ গোলে জয়ের ম্যাচটি উপহার দিল একদম ভিন্ন এক দৃশ্য। ম্যাচের সপ্তম মিনিটে দুর্দান্ত এক ভলিতে গোল করে উল্লাসের বদলে করজোড়ে ক্ষমা চাইলেন ২২ বছর বয়সি সুইডিশ মিডফিল্ডার ইয়াসিন আয়ারি। এরপর মাঠেই করলেন সিজদা। পিতৃভূমির জালে বল জড়িয়ে আয়ারির এই ক্ষমা প্রার্থনা ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
ইয়াসিন আয়ারির জন্ম ও বেড়ে ওঠা সুইডেনে হলেও তার শরীরে বইছে উত্তর আফ্রিকার রক্ত। তার বাবা তিউনিসিয়ান এবং মা মরক্কান। চার বছর আগে মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তার সুযোগ ছিল তিউনিসিয়া জাতীয় দলে খেলার। তবে আয়ারি ও তার অভিবাসী বাবা আজ্জুজ আয়ারি বেছে নেন সুইডেনকেই। সুইডিশ সংবাদমাধ্যম আফটোনব্লাডেটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার বাবা বলেছিলেন, ‘যে দেশ আমার ছেলের খেয়াল রেখেছে, তার উচিত সে দেশকেই প্রতিদান দেওয়া।’
ডিসেম্বরে যখন বিশ্বকাপের ড্র ঘোষণা করা হয়, তখনই বাবার দেশের মুখোমুখি হওয়ার রোমাঞ্চ ছুঁয়েছিল আয়ারিকে। বিশ্বকাপে নিজের অভিষেক ম্যাচেই সেই তিউনিসিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামেন তিনি। ম্যাচের শুরুতেই গোল করে জন্মভূমির প্রতি নিজের সহজাত দায় মেটান; কিন্তু ভুলে যাননি রক্তের টানও। তাই প্রথম গোলের পর ছিল না কোনো উদযাপন। তবে ম্যাচের ৯৫ মিনিটে যখন তিনি নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন, ততক্ষণে আবেগের বাঁধ ভেঙেছে। শেষ গোলটি তিনি উদযাপন করেন ভক্তদের সঙ্গে মেতে উঠে।
সাত বছর বয়সে রাসুন্ডার যুব দল দিয়ে শুরু করে আয়ারির যাত্রা পৌঁছায় স্ক্যান্ডিনেভিয়ান জায়ান্ট ক্লাব এআইকেতে। ২০২৩ সালে তিনি চুক্তিবদ্ধ হন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ আলবিয়নের সঙ্গে এবং একই বছর অভিষেক হয় সুইডেন জাতীয় দলে।
পিতৃভূমির লাল-সাদা জার্সি ছেড়ে সুইডেনের হলুদ-নীল জার্সি গায়ে জড়ানো আয়ারির এই জোড়া গোলের রাতটি কেবল মাঠের আধিপত্যের গল্প নয়; এটি ফুটবল ইতিহাসের পাতায় শিকড় ও কর্তব্যের টানাপোড়েনের এক অনন্য মানবিক দলিল।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

