সেবা নিতে এসে ফিরে যাচ্ছে মানুষ

দুর্গাপুরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র সব সময়ই থাকে তালাবদ্ধ

দুর্গাপুরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র সব সময়ই থাকে তালাবদ্ধ

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোর অধিকাংশই এখন সার্বক্ষণিক তালাবদ্ধ থাকছে । চিকিৎসা নিতে এসে প্রতিদিনই ফিরে যাচ্ছেন অসংখ্য রোগী। এতে একদিকে যেমন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রামাঞ্চলের গরিব ও অসহায় মানুষ । অন্যদিকে শহরের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে যেতে গিয়ে বাড়ছে ভোগান্তি ও চিকিৎসা ব্যয়।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, দুর্গাপুর উপজেলায় সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটিতে রয়েছে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। জনবল ও ওষুধ সংকটের কারণে কেন্দ্রগুলোর নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কুল্লাগড়া, চণ্ডিগড়, বিরিশিরি, কাকৈরগড়া ও গাঁওকান্দিয়া এই পাঁচটি কেন্দ্রের প্রতিটিতে একজন করে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, ফার্মাসিস্ট, ত্রপরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, আয়া ও নিরাপত্তা প্রহরীসহ মোট ২৫ জন থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র আটজন। শূন্য পদ রয়েছে ১৭টি। এছাড়া গত আড়াই বছর ধরেই চলছিল ওষুধের সংকট।

বিজ্ঞাপন

ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে সরেজমিনে গেলে ভোগান্তির চিত্র দেখা যায়। পাঁচটি কেন্দ্রের মধ্যে শুধু একটি বিরিশিরি ইউনিয়ন কেন্দ্র খোলা পাওয়া যায়। অন্যগুলোতে নানান রোগের চিকিৎসা নিতে এসে তালাবদ্ধ কেন্দ্র পেয়ে প্রতিদিনই চিকিৎসাসেবা ছাড়াই ফিরে যেতে হচ্ছে রোগীদের। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধও পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রই ছিল তাদের একমাত্র ভরসা। কিন্তু ওষুধ পাওয়ার অপেক্ষা না কাটতেই এখন কেন্দ্রগুলো নিয়মিত বন্ধ থাকায় পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কাকৈরগড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন মাজেদা বেগম। কিন্তু তালাবদ্ধ কেন্দ্র পেয়ে ফিরে যেতে হয় তাকে। তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন ধইরা আইসা ঘুইরা যাইতাছি। আগে তো ওষুধ দিত না। নাইগা নাইগা কইত, এহন তো দেহি বন্ধ থাকে। আজও ঘুইরা যাইতাছি গা।’

স্থানীয় বাসিন্দা রাশিদা খাতুন বলেন, ‘এখানে ডাক্তার না পাইয়া আমরার দুর্গাপুর শহরের হাসপাতালে যাওন লাগে। এইডা তো দূর আর কষ্ট হয়। ওষুধ পায় না তো অনেক দিন ধইরা। আরেকজন নারী আসমা আক্তার বলেন, ওষুধের জন্য গেলে নাই বলে কাগজে ওষুধ লেইখা দিত বাহিরের দোকান থেকে কিনার জন্য। কিন্তু টাকার চিন্তা কইরা ওষুধ কিনতাম না। কাগজ ঘরেই থুইয়া দেই।’

এদিকে উপজেলার প্রধান কার্যালয়েও চিত্র সংকটের। সেখানে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, মেডিকেল অফিসার (মাতৃ ও শিশু), সহকারী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা সহকারী, অফিস সহকারী, নিম্নশ্রেণির কর্মচারীসহ ১০টি পদে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র চারজন। বর্তমানে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাও সেখানে অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। তিনিও এখানে সপ্তাহে সোমবারে আসেন।

এ নিয়ে দুর্গাপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কামাল হোসেন জানান, দুজন স্টাফ দিয়ে পাঁচটি কেন্দ্র চালাচ্ছেন। যে কারণে একদিন একটিতে গেলে অন্যটি তালাবদ্ধ থাকে। ওষুধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি নন। নেত্রকোনা জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, শুধু দুর্গাপুর নয়, সারা দেশেই জনবল ও ওষুধের সংকট রয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে ওষুধ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন