সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাউসার আজিজের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ, ফোন না ধরা, ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অনীহা এবং অহরহ অপমান করাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার সকালে প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম। সভায় নির্বাহী কমিটির সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের রূঢ় ও অসহযোগিতামূলক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
প্রেসক্লাবের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক এবং যমুনা টেলিভিশনের নিজস্ব প্রতিবেদক আকরামুল ইসলাম বলেন, ৫ আগস্ট সাতক্ষীরা জেলা কারাগার ভাঙচুর করে হত্যা মামলার পলাতক আসামি আব্দুল আলিম আত্মগোপনে থেকে বিগত বছরের আগস্ট মাসে কলারোয়া উপজেলা ভূমি অফিসে জমিসংক্রান্ত বিষয়ে একটি মামলা করেন। ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে তিনি অনুপস্থিত থেকেও মামলাটি চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, এ-সংক্রান্ত বিষয়ে রিপোর্ট করার জন্য গত বুধবার তিনি ভূমি অফিসে যান। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি না হওয়ায় তিনি ফিরে আসেন। বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর জেলা প্রশাসকের টেবিলে যাওয়ার সুযোগ পান।
আকরামুল ইসলাম আরো বলেন, জেল পলাতক হত্যা মামলার আসামি কীভাবে ভূমি অফিসে মামলা চালিয়ে যাচ্ছেন—এমন প্রশ্ন করতেই জেলা প্রশাসক তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠেন। ক্যামেরার সামনে কথা বলা তো দূরের কথা, ডিসি সদর উপজেলা কৃষি অফিসারের দুর্নীতির বিষয়ে রিপোর্ট করার জন্য তাকে শাসাতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি যমুনা টিভিতে কীভাবে চাকরি করেন—এমন দম্ভোক্তিও করতে থাকেন।
তিনি জানান, ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি থতমত খেয়ে যান। পরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হাসেম ও কয়েকজন সহকারী কমিশনার ক্যামেরাপার্সন ইয়ারুল ইসলামের কাছে থাকা ক্যামেরা চেক করতে বাধ্য করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সভায় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বলেন, ২৯ জুলাই সদর হাসপাতাল মোড়ে অবস্থিত দুটি ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে লাইসেন্স নবায়ন না থাকাসহ বিভিন্ন অভিযোগে জরিমানা করেন এনডিসি তাজুল ইসলাম। তথ্য চাইতে তার কাছে ফোন করা হলে তিনি এসব নিউজ করার প্রয়োজন নেই বলে তথ্য প্রদান থেকে বিরত থাকেন। একপর্যায়ে এনডিসি সাংবাদিকের চেহারা দেখবেন বলে তাকে অফিসে আসতে বলেন।
তিনি বলেন, বিষয়টি সুরাহার জন্য পরের দিন সিনিয়র সাংবাদিকদের নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে যাওয়া হয়। কিন্তু সাংবাদিকদের কাছ থেকে কোনো কথা না শুনে উল্টো তাদের ভর্ৎসনা করেন জেলা প্রশাসক।
প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম বেলাল হোসাইন জানান, নিউজ সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি জেলা প্রশাসককে ফোন দেন। ফোন ধরে সাংবাদিক পরিচয় শুনেই তিনি ক্ষেপে যান। সাংবাদিকদের বক্তব্য দেওয়া ডিসির কাজ নয় বলে ফোন রেখে দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
একইভাবে মাই টিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ফয়জুল হক বাবুসহ আরও বহু সাংবাদিক জেলা প্রশাসকের অসদাচরণের শিকার হয়েছেন বলে সভায় অভিযোগ করা হয়।
এদিকে গত ৫ আগস্ট সাতক্ষীরায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহতদের মধ্যে উপহারসামগ্রী বিতরণের সময় জেলা পরিষদের প্রশাসকসহ কাউকে না ডাকায় সভাস্থল ত্যাগ করেছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ, জেলা জামায়াতের আমির শহীদুল ইসলাম মুকুলসহ রাজনৈতিক নেতারা।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রাহমাতুল্লাহ পলাশ বলেন, ‘মঞ্চে কাউকে না ডাকায় জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব ভাইয়ের নেতৃত্বে আমরা সবাই অনুষ্ঠান থেকে চলে আসি।’
সার্বিক বিষয়ে প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম বলেন, জেলার সমস্যা ও সম্ভাবনাসহ সার্বিক বিষয়ে রিপোর্ট করতে গিয়ে অতীতে কোনো জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে অসহযোগিতা পাননি সাংবাদিকেরা। এমনকি জেলা প্রশাসকের বাংলো থেকে গভীর রাতেও তার বক্তব্য পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক হলেন রাষ্ট্রের প্রতিনিধি। বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনি অঙ্গীকার সুশাসন ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা। সে ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের এমন আচরণ কাম্য নয়।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

