এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা নকআউট পর্বের এক অন্তহীন হতাশা। ২০১০ সালের সেই সোনালি ট্রফি জয়ের পর থেকে বিশ্বকাপের নকআউট মঞ্চ মানেই যেন ছিল স্পেনের জন্য এক ট্র্যাজিক ট্র্যাজেডি। কখনো গ্রুপ পর্বের বিদায়, কখনো শেষ ষোলোর টাইব্রেকার ভাগ্য—বিশ্বমঞ্চে স্প্যানিশ ফুটবলের সেই দাপট যেন হারিয়েই গিয়েছিল। অবশেষে দীর্ঘ ১৬ বছরের সেই অভিশপ্ত অধ্যায়ের ইতি টানল লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।
লস অ্যাঞ্জেলেসে ২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাটের ‘রাউন্ড অব ৩২’ (শেষ বত্রিশ)-এর ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে স্পেন। আর এই জয়ের মহাকাব্যিক নায়ক মিকেল ওইয়ারসাবাল, যিনি জোড়া গোল করে ফুটবল ইতিহাসের পাতায় ফিরিয়ে এনেছেন প্রায় চার দশক পুরোনো এক কিংবদন্তির স্মৃতি।
ম্যাচের ৩৬ মিনিটে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে স্পেনকে লিড এনে দেন ওইয়ারসাবাল। এরপর ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে, ৮৯ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করে অস্ট্রিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড।
এই জোড়া গোলের মাধ্যমে ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এক ম্যাচে জোড়া বা তার বেশি গোল করা প্রথম স্প্যানিশ ফুটবলার হিসেবে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন ওইয়ারসাবাল। এর আগে সর্বশেষ ১৯৮৬ মেক্সিকো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ডেনমার্কের বিপক্ষে নকআউট পর্বের এক ম্যাচে একাধিক গোল করার কীর্তি গড়েছিলেন স্পেনের কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড এমিলিও বুত্রাগেনিও। সেই ম্যাচে একাই ৪ গোল করেছিলেন তিনি। প্রায় ৪০ বছর পর বুত্রাগেনিওর সেই অতিমানবীয় কীর্তির পর কোনো স্প্যানিশ তারকা নকআউট ম্যাচে এই কীর্তি পুনরায় স্পর্শ করলেন।
৪৮ দলের এই নতুন বিশ্বকাপ ফরম্যাটে ‘রাউন্ড অব ৩২-এর বাধা টপকে স্পেন এখন আরো আত্মবিশ্বাসী। মিকেল ওইয়ারসাবালের এই রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স এবং স্পেনের ছন্দবদ্ধ ফুটবল জানান দিচ্ছে—১৬ বছরের অপেক্ষার পর এবার বিশ্বমঞ্চে রাজত্ব ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে পুরোপুরি প্রস্তুত স্প্যানিশ আর্মাডা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

