৩৪ দিন পর চলছে শাহজালালের দানবাক্সের টাকা গণনা

৩৪ দিন পর চলছে শাহজালালের দানবাক্সের টাকা গণনা

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে স্থাপন করা নতুন দানবাক্স তৃতীয়বারের মতো খোলা হয়েছে। দীর্ঘ ৩৪ দিন পর শনিবার সকাল ১০টা থেকে মাজার প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে শুরু হয়েছে দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থ গণনা।

বিজ্ঞাপন

এর আগে দ্বিতীয় দফায় দানবাক্স থেকে পাওয়া গিয়েছিল ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। প্রথম দুই দফায় নগদ বাংলাদেশি মুদ্রায় মোট ৬৪ লাখ ১০ হাজার ৭০২ টাকা পাওয়া যায়। এবার একটানা ৩৪ দিন দান জমা হওয়ায় অর্থের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে গণনা শেষ হওয়ার আগে মোট কত টাকা পাওয়া গেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

শনিবার সকাল থেকে মাজার প্রাঙ্গণে সবার উপস্থিতিতে দানবাক্সের অর্থ গণনার কার্যক্রম শুরু হয়। জেলা প্রশাসন, মাজারের মুতাওয়াল্লি, স্থানীয় রাজনীতিক, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রশাসনের প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত রয়েছেন। সাংবাদিকদেরও পুরো কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সর্বশেষ গত ১১ জুলাই দানবাক্স খোলা হয়েছিল। এরপর ৩৪ দিন ধরে এতে দান জমা হয়েছে। এবারও আগের মতো প্রকাশ্যেই অর্থ গণনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গণনার সময় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের উপস্থিতি রাখা হয়েছে, যাতে অর্থ গণনা নিয়ে কোনো ধরনের সন্দেহ বা অবিশ্বাস তৈরি না হয়। মাজারের দান ও অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

নতুন দানবাক্স স্থাপনের পর প্রথমবার এটি খোলা হয় গত ২২ জুন। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে দানবাক্সে জমা হয়েছিল ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা। সেদিন দানবাক্স থেকে পাওয়া অর্থও প্রকাশ্যে গণনা করা হয়।

এরপর গত ১১ জুলাই দ্বিতীয়বার দানবাক্স খোলা হয়। দীর্ঘতর সময়ে দান জমা হওয়ায় সেদিন পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশি মুদ্রার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও অন্যান্য সামগ্রীও ছিল।

দ্বিতীয় দফায় দানবাক্স খোলার পর আর সেটি খোলা হয়নি। ফলে দীর্ঘ ৩৪ দিন ধরে দর্শনার্থী ও ভক্তদের দেওয়া দান একই দানবাক্সে জমা হয়েছে। এ কারণে এবার আগের দুই দফার তুলনায় বড় অঙ্কের অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে দানবাক্সে এবার প্রকৃত কত টাকা জমা হয়েছে, তা জানতে গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

মাজারের দানবাক্সের অর্থ প্রকাশ্যে গণনার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এর ফলে দানের অর্থের হিসাব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা আরও বাড়বে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্থানীয় রাজনীতিক, মাজারের মুতাওয়াল্লি, গণ্যমান্য ব্যক্তি, প্রশাসনের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে অর্থ গণনা করা হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়া উন্মুক্ত রাখার উদ্দেশ্য হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

মাজারের আয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে গত জুনে প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষের মধ্যে নতুন উদ্যোগ শুরু হয়। গত ১২ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম মাজার পরিদর্শনে গিয়ে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব দেন।

এর কয়েক দিন পর ১৮ জুন তার নির্দেশে মাজারের ঐতিহ্যবাহী ডেগ সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। নতুন দানবাক্স স্থাপনের পর থেকেই প্রকাশ্যে টাকা গণনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এতে দানের অর্থের হিসাব দৃশ্যমানভাবে সংরক্ষণ ও গণনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পরবর্তীতে মাজারের পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা আনতে ২৬ জুন একটি জরুরি বৈঠকের মাধ্যমে ১৩ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটিকে মাজার পরিচালনা ও অর্থ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, কমিটি কাজ করছে এবং নিয়মিত বৈঠকও হচ্ছে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন