১৩ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু কায়রোর রাবা আল-আদাবিয়া স্কয়ারে রক্তাক্ত সেই দিনের স্মৃতি এখনো মুছে যায়নি। স্বজন হারানোর বেদনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ কারাবাসের যন্ত্রণা। রাবা হত্যাকাণ্ডের ১৩ বছর পূর্তিতে মিসরের কারাগারে থাকা রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন নিহত ও বন্দি পরিবারের সদস্যরা।
২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট তৎকালীন সেনা অভিযানে মিসরের রাজধানী কায়রোর রাবা আল-আদাবিয়া চত্বরে ও আল-নাহদা স্কয়ারে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে নিরাপত্তা বাহিনী বর্বর হামলা চালায়। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাবে ওই অভিযানে শত শত মানুষ নিহত হয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হিসাবে নিহতের সংখ্যা অন্তত ৮১৭, যা এক হাজারেরও বেশি হতে পারে।
এই নারকীয় ঘটনা আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত। ১৩ বছর পরও ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক মানুষ কারাগারে রয়েছেন বলে অভিযোগ মানবাধিকার সংগঠনগুলোর। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, রাবার ঘটনায় স্বজন হারানোর পর অনেক পরিবারকে নতুন করে রাজনৈতিক বন্দিত্বের বোঝা বহন করতে হচ্ছে।
সম্প্রতি মিসরে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবিতে পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত জুলাইয়ে মানবাধিকারকর্মীদের একটি প্রচারণা শুরু হয়, যেখানে কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই সব রাজনৈতিক বন্দির মামলা ন্যায়সংগত ও স্বচ্ছভাবে পর্যালোচনা করে তাদের মুক্তির দাবি জানানো হয়।
এর আগে গত মে মাসে কায়রোয় বন্দিদের পরিবারের সদস্যরা একত্র হয়ে তাদের স্বজনদের মুক্তির দাবি তুলেছিলেন। তবে এ উদ্যোগের পর কয়েকজন আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও আটক করা হয় বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, রাবা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো সদস্য বা দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে জবাবদিহির আওতায় আনা হয়নি। অন্যদিকে, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেককে দীর্ঘ কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং কেউ কেউ এখনো কারাগারে রয়েছেন।
পরিবারগুলোর দাবি, রাবার রক্তাক্ত অধ্যায়ের প্রকৃত বিচার এবং রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি ছাড়া মিসরের সমাজে দীর্ঘদিনের ক্ষত নিরাময় সম্ভব নয়। তাদের ভাষায়, ১৩ বছর পরও অনেক পরিবারের কাছে রাবা কেবল অতীতের একটি ঘটনা নয়; বরং হারানো স্বজন, বন্দি সন্তান এবং অপেক্ষায় থাকা পরিবারের প্রতিদিনের বাস্তবতা।
উল্লেখ্য, মিসরের কারাগারে ৬০ হাজারের বেশি রাজনৈতিক বন্দি আছেন, যার মধ্যে ১ হাজারের বেশি নারী। এই বন্দিদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্র, যুবক এবং মিসরের রাজনৈতিক দলে বিভিন্নভাবে যুক্ত কর্মীরা। ২০২১ সালের মার্চে মিসরে মোট বন্দীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২০ হাজার , যার মধ্যে আনুমানিক ৬৫ হাজার রাজনৈতিক বন্দি ছিলেন এবং কমপক্ষে ২৬ হাজার বিচার-পূর্ব বন্দি ছিলেন।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


