আইনের চোখে কতটা নিখুঁত ছিল রেফারির সিদ্ধান্ত

ইয়ামালের বিতর্কিত ‘হ্যান্ডবল’ ও স্পেনের পেনাল্টি

স্পোর্টস রিপোর্টার

ইয়ামালের বিতর্কিত ‘হ্যান্ডবল’ ও স্পেনের পেনাল্টি

ফুটবল মাঠে ‘হ্যান্ডবল’ মানেই কি ফাউল? সাধারণ দর্শকদের মনে প্রশ্নটি যুগ যুগ ধরে চলে এলেও আধুনিক ফুটবলের নিয়ম বলছে-না। বল আর হাতের স্পর্শ হলেই তা নিয়মবহির্ভূত হবে, এমন কোনো কথা নেই। আর এ নিয়মের সুক্ষ্ম প্রয়োগেরই দেখা মিলল ডালাসে ফ্রান্স বনাম স্পেনের মধ্যকার হাই ভোল্টেজ সেমিফাইনাল ম্যাচে। ফাউল হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামালের হাতে বল লাগলেও রেফারি স্পেনের পক্ষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন, যা ফুটবল মহলে নতুন করে নিয়মের চুলচেরা বিশ্লেষণের সুযোগ করে দিয়েছে।
ম্যাচ চলাকালীন ফরাসি পেনাল্টি বক্সে বল দখলের লড়াইয়ের সময় ঘটনাটি ঘটে চোখের পলকে। বক্সের ভেতর বলটি প্রথমে ইয়ামালের হাতে স্পর্শ করে। ঠিক ওই মুহূর্তেই স্প্যানিশ এই তরুণ তুর্কিকে ফাউল করে বসেন ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়ে। রেফারি ইভান বার্টন কোনো দ্বিধা না করে পেনাল্টির বাঁশি বাজান।
পরে ভিএআর প্রযুক্তির মাধ্যমে ইয়ামালের সম্ভাব্য হ্যান্ডবলের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হলেও মাঠের রেফারির সিদ্ধান্তই বহাল থাকে। আর ওই স্পট কিক থেকে গোল করে স্পেনকে লিড এনে দেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। দৃশ্যত ঘটনাটি বিভ্রান্তিকর মনে হলেও ফুটবলের ১২ নম্বর আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্তটি ছিল সম্পূর্ণ নিখুঁত।
ফুটবলের আধুনিক নিয়মানুযায়ী, যেকোনো হ্যান্ডবল যাচাইয়ের জন্য রেফারিকে মূলত দুটি বিষয় বিশ্লেষণ করতে হয়-খেলোয়াড়ের হাতের অবস্থান এবং তার উদ্দেশ্য। ইয়ামালের ক্ষেত্রে পেনাল্টি বহাল থাকার পেছনে দুটি নিয়মই কার্যকর হয়েছে।

এক. শরীরের স্বাভাবিক অবস্থান
ইয়ামালের হাতটি শরীরের সঙ্গে একেবারে লেগেছিল। তিনি হাত বাড়িয়ে অতিরিক্ত কোনো বাধা তৈরি করেননি বা বাড়তি জায়গা দখল করেননি। অর্থাৎ বলটিই এসে তার হাতে লেগেছিল, তিনি বল আটকানোর কোনো চেষ্টা করেননি।

দুই. আক্রমণভাগের হ্যান্ডবল আইনের আধুনিকায়ন
পুরোনো নিয়মে আক্রমণের শুরুতে যেকোনো হ্যান্ডবলই ফাউল ধরা হতো। কিন্তু বর্তমান নিয়মে অনিচ্ছাকৃত হ্যান্ডবল তখনই ফাউল হবে, যখন খেলোয়াড় সরাসরি হাত দিয়ে গোল করেন কিংবা হাতে বল লাগার ঠিক পরপরই গোল করে বসেন। ইয়ামাল হাত দিয়ে গোলও করেননি কিংবা বেআইনিভাবে বল নিয়ন্ত্রণ করে তাৎক্ষণিক শটও নেননি।
এই পেনাল্টির পেছনে রেফারিকে দুটি ভিন্ন ঘটনার ধারাবাহিকতা মেলাতে হয়েছে। প্রথমত, ইয়ামালের হাতে বল লাগার ঘটনাটি অনিচ্ছাকৃত এবং হাতের অবস্থান স্বাভাবিক থাকায় তা ফাউল ছিল না। আর প্রথম ঘটনাটি বৈধ হওয়ায় বলটি মাঠের ভেতরে সচল ছিল। ঠিক সেই সচল বলেই দিনিয়ে বক্সের ভেতর ফাউলটি করায় পেনাল্টি দিতে কোনো বাধা ছিল না।
ডালাসের এই সেমিফাইনালে ওইয়ারসাবালের পেনাল্টি গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে পেদ্রো পোরো ব্যবধান ২-০ করেন। এই নিখুঁত জয়ের সুবাদে ইংল্যান্ড বা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আরেকটি মেগা ফাইনাল খেলার প্রহর গুনছে স্প্যানিশরা। আর মাঠের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করল, আধুনিক ফুটবল শুধু গায়ের জোরে নয়; নিয়মের সূক্ষ্ম মারপ্যাঁচেও পরিচালিত।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন