চীনে একাকী বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গড়ে উঠেছে নতুন ধরনের ভোক্তা অর্থনীতি, যাকে বলা হচ্ছে ‘একাকিত্বকেন্দ্রিক অর্থনীতি’ বা ‘সোলো ইকোনমি’। ২০২৫ সালে দেশটির এই বাজারের আকার এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে বলে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিসকভারি রিপোর্টসের হিসাবে জানা গেছে।
বিয়ে, সন্তান ও বাড়ির মালিকানাকে জীবনের সাফল্যের প্রচলিত মানদণ্ড হিসেবে দেখার প্রবণতা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কমে যাচ্ছে। বাড়ি ও সন্তান পালনের ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের কারণে চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় একক ব্যক্তির পরিবার বাড়ছে।
এই পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও নতুন পণ্য ও সেবা নিয়ে এগিয়ে এসেছে। একা মানুষের জন্য অল্প খাবার, একক ভ্রমণসঙ্গী, ব্যক্তিগত ফটোগ্রাফার, একক কারাওকে বুথ, ভিডিও গেম, এআই সঙ্গী এবং স্বল্পদৈর্ঘ্যের নাটকের মতো সেবার চাহিদা বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একা থাকা মানুষের অনেক খরচ ভাগ করে নেওয়ার মতো সঙ্গী না থাকায় তাদের নির্দিষ্ট ব্যয় বেশি। তবে তারা নিজেদের ভ্রমণ, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, শিক্ষা ও বিনোদনে তুলনামূলক বেশি অর্থ ব্যয় করেন।
একই সঙ্গে পোষা প্রাণীর প্রতিও বাড়ছে মানুষের আগ্রহ। চীনে একক ব্যক্তিদের মধ্যে বিড়াল ও কুকুর পালনের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে এবং পোষা প্রাণীর জন্য খাবার, চিকিৎসা ও বিলাসপণ্যের বাজারও সম্প্রসারিত হচ্ছে।

তবে একাকিত্বের স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় একাকিত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ভবিষ্যতে বয়স্ক একক মানুষের সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনায় চীনের ‘সিলভার ইকোনমি’ও দ্রুত বড় হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, একা থাকা আর সাময়িক জীবনপর্ব নয়; এটি ক্রমেই স্থায়ী সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন সেবার বিস্তার মানুষকে দীর্ঘ সময় একা থাকার সুযোগ দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এই ‘সোলো ইকোনমি’র পণ্য ও সেবা বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সূত্র: সিএনএন
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


