২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে যখন উত্তর আমেরিকার তীব্র গরম ও আর্দ্রতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক তখনই নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিল ফিফা। টুর্নামেন্টের স্টেডিয়ামগুলোতে দর্শকদের নিজস্ব পানির বোতল বহনের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
মাত্র তিন সপ্তাহ আগেও ফিফার প্রকাশিত স্টেডিয়াম আচরণবিধিতে বলা হয়েছিল, সর্বোচ্চ এক লিটার ধারণক্ষমতার স্বচ্ছ ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের খালি বোতল স্টেডিয়ামে আনা যাবে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেছে সংস্থাটি। নতুন নির্দেশনায় স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, বিশ্বকাপের কোনো ভেন্যুতেই পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল বহনের অনুমতি থাকবে না।
সংবাদমাধ্যম *দ্য অ্যাথলেটিক*-এর হাতে আসা একটি ই-মেইল অনুযায়ী, টিকিটধারীদের কাছে পাঠানো হালনাগাদ আচরণবিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিরাপত্তাজনিত কারণে সব ধরনের বোতল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফিফার যুক্তি, বোতল ছুড়ে মারলে দর্শক বা খেলোয়াড়দের আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। কারণ, এর ফলে দর্শকরা নিজেদের খালি বোতল নিয়ে এসে স্টেডিয়ামের পানি সরবরাহ কেন্দ্র বা ডিসপেনসার থেকে পানি ভরে নেওয়ার সুযোগও হারাবেন। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ক্লাব বিশ্বকাপে তীব্র গরম নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। সে সময় ভেন্যুগুলোতে বোতলজাত পানির দাম ছিল ৪ থেকে ৬ ডলার। এবারের বিশ্বকাপে পানির মূল্য কত হবে, তা এখনও জানানো হয়নি।
ফিফার দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক অংশীদার কোকা-কোলার পানি ব্র্যান্ড ‘দাসানি’ বিশ্বকাপ ভেন্যুগুলোতে বিক্রি করা হবে বলেও জানা গেছে। ফলে দর্শকদের জন্য পানির সহজলভ্যতা ও মূল্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে, বিশ্বকাপ চলাকালে আবহাওয়াজনিত ঝুঁকির বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, টুর্নামেন্টের ১০৪ ম্যাচের মধ্যে প্রায় এক-চতুর্থাংশ ম্যাচ এমন পরিস্থিতিতে হতে পারে, যেখানে তাপজনিত চাপের সূচক ডব্লিউবিজিটি নিরাপদ সীমা ছাড়িয়ে যাবে। কয়েকটি ম্যাচে এই মাত্রা আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডব্লিউবিজিটি বা ওয়েট বাল্ব গ্লোবাল টেম্পারেচার শুধু তাপমাত্রা নয়, আর্দ্রতা, বাতাসের গতি এবং সূর্যের তাপও বিবেচনায় নেয়। ফলে এটি মানুষের শরীরের ওপর গরমের প্রকৃত প্রভাব পরিমাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
বিশ্বকাপের আয়োজক শহরগুলোর মধ্যে কানসাস সিটি, বোস্টন, মায়ামি, ফিলাডেলফিয়া, সান ফ্রান্সিসকো এবং নিউইয়র্ক-নিউ জার্সিকে সবচেয়ে বেশি তাপ ও আর্দ্রতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড় রাখছে ফিফা। শিশুখাদ্য, জীবাণুমুক্ত পানি কিংবা চিকিৎসাজনিত প্রয়োজনীয় তরল বহন করা যাবে। সেক্ষেত্রে ইংরেজি, ফরাসি বা স্প্যানিশ ভাষায় চিকিৎসা সংক্রান্ত সনদ দেখাতে হবে।
ফিফা জানিয়েছে, দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি আয়োজক শহরের সঙ্গে সমন্বয় করে মিস্টিং স্টেশন, কুলিং টেন্ট, অতিরিক্ত ফ্যান ও পানি সরবরাহ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে স্টেডিয়ামের ভেতরে পানির দাম সংশ্লিষ্ট ভেন্যুর অন্যান্য বড় ইভেন্টের মূল্য কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা হবে বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

