বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলের জার্সিতে ফিরেছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে গোল করে আলো ছড়ানোর সুযোগও পেয়েছিলেন একাধিকবার। কিন্তু সাতটি শটের পাঁচটিই গেল লক্ষ্যচ্যুত হয়ে। দ্বিতীয়ার্ধে বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। এমনকি ফাঁকা জাল পেয়েও গোল করতে পারেননি পর্তুগিজ মহাতারকা। রোনালদোর এমন হতাশার রাতেই অবশ্য জয় দিয়ে উয়েফা নেশনস লিগের নতুন অভিযান শুরু করেছে পর্তুগাল। জোয়াও ফেলিক্সের একমাত্র গোলে ওয়েলসকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে লিসবনে ঘরের মাঠে ওয়েলসের বিপক্ষে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে জর্জ জেসুসের দল। ম্যাচে ৬০ শতাংশের বেশি সময় বল নিজেদের দখলে রাখে পর্তুগাল। পুরো ম্যাচে ২৩টি শট নেয় তারা, যার পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে ওয়েলসের পাঁচ শটের মাত্র একটি লক্ষ্যে ছিল।
শুরু থেকেই গোলের সন্ধানে ছিলেন রোনালদো। ম্যাচের প্রথম সুযোগটিই আসে ফেলিক্সের বাড়ানো থ্রু পাস থেকে। বক্সের ভেতর বল পেয়েও কোনাকুনি শটে পোস্টের বাইরে বল পাঠান তিনি। কিছুক্ষণ পর তাঁর আরেকটি শট প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
তবে রোনালদোকে ছাড়িয়ে প্রথমে ব্যবধান গড়েন ফেলিক্স। ২২ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নিচু ও জোরালো শট নেন তিনি। বলটি ওয়েলসের এক খেলোয়াড়ের পায়ে সামান্য লেগে দিক পরিবর্তন করে জড়িয়ে যায় জালে। জাতীয় দলের হয়ে ৫৮ ম্যাচে এটি ফেলিক্সের ১৩তম গোল।
বিরতির পর রোনালদোর সামনে আসে গোল করার সবচেয়ে সহজ সুযোগগুলোর একটি। রুবেন নেভেসের ক্রস ওয়েলসের ছয় গজ বক্সের মুখে পৌঁছালে গোলরক্ষকও নিজের জায়গা ছেড়ে সরে যান। সামনে তখন প্রায় ফাঁকা গোল। কিন্তু রোনালদোর পায়ের টোকায় বল চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। নিজের ভুলে হতাশ রোনালদোকে তখন দেখা যায় ক্ষোভ প্রকাশ করতে।
এরপর আরও একবার বল জালে পাঠিয়েছিলেন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা। ব্রুনো ফার্নান্দেজের থ্রু পাস ধরে গোলরক্ষককে কাটিয়ে বল জালে পাঠালেও ভিএআরের পর সেটি অফসাইড হিসেবে বাতিল হয়। পরে তাঁর আরেকটি দুর্বল শট সহজেই নিয়ন্ত্রণে নেন ওয়েলসের গোলরক্ষক।
৬৭ মিনিটে রোনালদোকে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ জর্জ জেসুস। মাঠ ছাড়ার সময় তাঁর মুখে ছিল হতাশার ছাপ। তবে গ্যালারিতে থাকা পর্তুগিজ সমর্থকেরা তখনও তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও শুভকামনা জানান।
ম্যাচের শেষ দিকে অবশ্য স্বস্তিতে থাকার সুযোগও ছিল না পর্তুগালের। ৭৩ মিনিট পর্যন্ত ওয়েলস আক্রমণাত্মকভাবে তেমন কিছু করতে না পারলেও এরপরই সুযোগ তৈরি করে। তাদের একটি শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। সেটি জালে ঢুকলে ম্যাচের চিত্রই বদলে যেতে পারত। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ফেলিক্সের ২২ মিনিটের গোলই হয়ে থাকে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী মুহূর্ত।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

-d3e52f-720x405.webp)