মেক্সিকো সিটিতে ঐতিহাসিক অ্যাজতেকা স্টেডিয়ামের পুনঃউদ্বোধন বলে কথা। রীতিমতো দর্শকের ঢল নামল। ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের ভেন্যু যে এই মাঠ। নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা মাঠে ঢুকতে দর্শকদের সময় লেগেছে অনেকটা। স্টেডিয়ামের আশপাশে ও শহরের নানা জায়গায় প্রতিবাদও হয়েছে। সড়ক সরব ছিল বিক্ষোভ মিছিল আর মানববন্ধনে। ম্যাচ মাঠে গড়ানোর আগে গ্যালারি থেকে পড়ে মারা যান এক দর্শক।
তবে শেষ পর্যন্ত উৎসবের আমেজটাই নজর কাড়ল সবার। বিশ্বকাপ যে কড়া নাড়ছে দরজায়। তাতে ঢাকা পড়ল রোনালদোবিহীন পর্তুগালের সঙ্গে মেক্সিকোর প্রীতি ম্যাচের ফল। গ্যালারি আর মাঠের বাইরে যতটা উন্মাদনা আর উত্তেজনা দেখা গেল, তার ছিটেফোঁটাও দেখা গেল না মাঠের লড়াইয়ে। গোলশূন্য ড্রয়ে অমীমাংসিত থেকে গেছে দুদলের লড়াই। এ ম্যাচ দিয়েই ফের অ্যাজতেকা স্টেডিয়ামের দরজা খুলল দীর্ঘ দুই বছর পর।
বিক্ষুব্ধ জনতা স্টেডিয়ামের কাছে একটি প্রধান মহাসড়ক দখলে নিয়ে প্রতিবাদ মিছিল করেছে। সড়ককে একটি অস্থায়ী ফুটবল মাঠে পরিণত করে ফেলে তারা। তাদের দাবি, মেক্সিকো সিটির কোয়োআকান এলাকায় আবাসন ব্যবস্থা, পানি, পরিবহন ও বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে। সেসব দিকে নজর না দিয়ে কোটি কোটি ডলার খরচ করে বিশ্বকাপ আয়োজন করছে কর্তৃপক্ষ।
ফুটবল বিশ্বের বিখ্যাত ও আইকনিক স্টেডিয়ামগুলোর একটি অ্যাজতেকা স্টেডিয়াম। নাম বদলে এখন পরিচিতি পেয়েছে বানোর্তে স্টেডিয়াম হিসেবে। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রায় দুই বছর ধরে সংস্কার করা হয়েছে স্টেডিয়ামটির। মেক্সিকো-পর্তুগাল ম্যাচ দিয়ে নতুন পথচলা শুরু হলো এই মাঠের।
ফুটবল বিশ্বের অনেক ইতিহাসই রচিত হয়েছে এই স্টেডিয়ামে। এই মাঠেই ১৯৭০ বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ইতালিকে উড়িয়ে জুলে রিমে ট্রফি নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছে ব্রাজিল। প্রথম স্টেডিয়াম হিসেবে দুটি বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনের রেকর্ড গড়েছে স্টেডিয়ামটি। বিশ্বের একমাত্র এ মাঠেই বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা দুই ফুটবল কিংবদন্তি—পেলে ও ডিয়েগো ম্যারাডোনা। ম্যারাডোনা ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল করেছিলেন এখানে। শতাব্দীর সেরা ম্যাচ—১৯৭০ বিশ্বকাপে ইতালি-পশ্চিম জার্মানির সেমিফাইনালের ভেন্যুও এ মাঠ।
তবে মাঠের লড়াইয়ে দুর্দান্ত কিছু হয়নি। ম্যাচের ১৪ মিনিটে পর্তুগালের জোয়াও ফেলিক্স সুযোগ পেয়েও মিস করেন গোল। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি গনজালো রামোসের গোল প্রচেষ্টাও রুখে দিয়েছে গোল পোস্ট। মাঠে আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে পর্তুগিজরা। কিন্তু গোল আদায় করতে পারেনি। বিরতির পর ব্রুনো ফার্নান্দেজের শট অল্পের জন্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। শেষ দিকে নাটকীয় জয়ের সুযোগ অবশ্য পেয়েছিল মেক্সিকো। তবে ফরোয়ার্ড আরমান্দো গনজালেসের মাথা ছোঁয়া বল চলে যায় মাঠের বাইরে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

