শ্রীলঙ্কার কালথারায় অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে দারুণ সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশের ফিদে মাস্টার সাকলাইন মোস্তফা সাজিদ। ওপেন অনূর্ধ্ব-২০ বিভাগে স্বর্ণপদক জিতেছেন এই তরুণ দাবাড়ু।
৯ রাউন্ড শেষে ৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করে ওপেন বিভাগে রানার-আপ হন সাকলাইন। একই সঙ্গে অনূর্ধ্ব-২০ ক্যাটাগরিতে সেরা হয়ে জিতে নেন স্বর্ণপদক। শেষ রাউন্ডে তিনি মালয়েশিয়ার ফিদে মাস্টার লিম জোও রিনকে হারান।
শুধু স্ট্যান্ডার্ড বিভাগেই নয়, র্যাপিড দাবায়ও সাফল্য পেয়েছেন সাকলাইন। অনূর্ধ্ব-২০ বিভাগে রৌপ্যপদক জিতেছেন তিনি। এছাড়া ব্লিটজ দাবায় পেয়েছেন ব্রোঞ্জপদক। নারী র্যাপিড বিভাগে বাংলাদেশের ক্যান্ডিডেট মাস্টার ওয়ালিজা আহমেদ রৌপ্যপদক অর্জন করেন।
দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় দাবাড়ু হিসেবে পরিচিত সাকলাইন অল্প বয়সেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের প্রতিভার ছাপ রেখেছেন। গত বছর স্পেনে বিশেষ প্রশিক্ষণের আমন্ত্রণ পেলেও নানা জটিলতায় শেষ পর্যন্ত যেতে পারেননি। তবে এবার কমনওয়েলথে স্বর্ণ জিতে নতুন করে আলোচনায় এলেন তিনি। স্বর্ণ জয়ের পর আজ সকালে দেশে ফিরেছেন এই দাবাড়ু।
বাংলাদেশের অন্য দাবাড়ুদের মধ্যে ফিদে মাস্টার খন্দকার আমিনুল ইসলাম ৬ পয়েন্ট নিয়ে ১৬তম এবং রায়ান রশিদ মুগ্ধ ৫ পয়েন্ট নিয়ে ৩৯তম স্থান অর্জন করেন। বয়সভিত্তিক ওপেন অনূর্ধ্ব-১২ বিভাগে রায়ান রশিদ মুগ্ধ ৫.৫ পয়েন্ট নিয়ে দশম হন। বালিকা অনূর্ধ্ব-১৬ বিভাগে জান্নাতুল প্রীতি ৪.৫ পয়েন্ট নিয়ে ১৮তম স্থান পান।
এদিকে ওপেন অনূর্ধ্ব-১৮ বিভাগে মো. জায়ান খান ৩.৫ পয়েন্ট নিয়ে দশম এবং ওপেন অনূর্ধ্ব-১৬ বিভাগে সায়ান মেরাব হাসান ৩ পয়েন্ট নিয়ে ২৩তম হন। অসুস্থতার কারণে শেষ দুই রাউন্ড খেলতে না পারলেও ওয়ালিজা আহমেদ ৭ খেলায় ৩ পয়েন্ট সংগ্রহ করেন।
টুর্নামেন্টে ভারতের গ্র্যান্ডমাস্টার মিত্রভা গুহ ৭.৫ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন। ওপেন বিভাগে ১৩টি দেশের মোট ৯৬ জন দাবাড়ু অংশ নেন, যেখানে ছিলেন ৭ জন গ্র্যান্ডমাস্টার, ১ জন মহিলা গ্র্যান্ডমাস্টার এবং ৩ জন আন্তর্জাতিক মাস্টার।
এদিকে এশিয়ান কন্টিনেন্টাল টুর্নামেন্ট খেলতে আজ রাতে মঙ্গোলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়ছেন আন্তর্জাতিক মাস্টার ফাহাদ রহমান ও গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোর্শেদ। এই টুর্নামেন্ট বিশ্বকাপ বাছাইয়ের পাশাপাশি ফাহাদ রহমানের জন্য আরেকটি জিএম নর্ম অর্জনের সুযোগও তৈরি করবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

