রংপুরে বিধিবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায় এবং ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে মুচলেকা নেওয়ার প্রতিবাদে মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন নবীন আইনজীবীরা। সোমবার রাত ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত নগরীর আদালতপাড়ায় জেলা আইনজীবী সমিতিতে অবস্থান নিয়ে এই বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা। এ সময় আইনজীবীরা সমিতির সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিনকে কিছুক্ষণ অবরুদ্ধ করে রাখেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নবীন আইনজীবী আসমিন ফারহা আঁখি বলেন, নবীন আইনজীবী হিসেবে সমিতিতে ভর্তির ফি পূর্বে ৫০ হাজার টাকা থাকলেও বর্তমানে তা বয়সভেদে ১ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩৫ বছরের বেশি বয়সি আইনজীবীদের কাছ থেকে স্ট্যাম্পে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা কখনোই ভোটাধিকারের আবেদন না করেন। আইনের চর্চাকেন্দ্রে আইনজীবী সমিতি নিজেই যদি ভোটাধিকার হরণের মতো বেআইনি শর্ত চাপিয়ে দেয়, তাহলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই কালাকানুন বাতিল না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
আরেক আন্দোলনকারী আইনজীবী আরিফুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ২৬তম ব্যাচে বার কাউন্সিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১০৮ জন নবীন আইনজীবী রংপুর আইনজীবী সমিতিতে সদস্যপদের জন্য আবেদন করেন। এর মধ্যে ৪৫ জনকে সাধারণ সদস্য হিসেবে গ্রহণ করা হলেও বাকি ৬৩ জনকে ‘সহযোগী সদস্য’ হিসেবে ভর্তির সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। দেশের অন্য কোনো বারে এমন নিয়ম না থাকলেও রংপুর সমিতিতে বয়সভেদে মোটা অঙ্কের ফি আদায় এবং ভবিষ্যতে ভোটাধিকার প্রয়োগ না করার মুচলেকা নেওয়া হচ্ছে। অবিলম্বে এই অযৌক্তিক ফি ও নিয়ম বাতিল করতে হবে।
নবীন আইনজীবী বিকাশ চন্দ্র রায় জানান, মঙ্গলবার অতিরিক্ত ভর্তি ফি ও মুচলেকা ছাড়াই ভর্তির আশ্বাস দিয়েছেন আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক। যদি এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হয়, তবে আমরা আমরণ অনশন কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।
অভিযোগ প্রসঙ্গে রংপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিন জানান, রংপুর আইনজীবী সমিতির বর্তমান নিয়মাবলি ২০০৩ সালে প্রণীত। সেই বিধান অনুযায়ীই ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নবীন আইনজীবীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাদের অতিরিক্ত ফি ছাড়াই ভর্তি হতে বলা হয়েছে। তবে মুচলেকা ও অন্যান্য বিষয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য শুধু আমাকে নয়, পুরো সমিতিও বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

