আফ্রিকা কাপ অব নেশন্স (আফকন) ঘিরে বড় ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শিরোপা জয়ের দুই মাস পর সেই সাফল্য বাতিল হওয়ায় চূড়ান্ত আইনি লড়াইয়ে নামছে সেনেগাল জাতীয় ফুটবল দল। কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবলের (সিএএফ) আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ক্রীড়া আদালতে আবেদন করেছে দলটি।
জানুয়ারিতে ফাইনালে জিতে শিরোপা উদযাপন করেছিল সেনেগাল। তবে পরে কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল-এর আপিল বিভাগ সেই ফল বাতিল করে মরক্কো জাতীয় ফুটবল দল-কে ৩-০ ব্যবধানে বিজয়ী ঘোষণা করে। মূলত ম্যাচ চলাকালে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেনেগালকে ‘ফাইনালের অযোগ্য’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এ ঘটনার পরই বিষয়টি গড়ায় কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট-এ। সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন জানায়, সিএএফের রায়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেরিতে পাওয়ায় আপিলের সময় বাড়ানোর প্রয়োজন হয়েছিল। পাশাপাশি সেনেগাল সরকারও এই ঘটনায় ‘সন্দেহজনক দুর্নীতি’র তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতের দ্বারস্থ হয়।
সিএএসের মহাপরিচালক ম্যাথিউ রিব এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘দল ও সমর্থকদের অপেক্ষার বিষয়টি আমরা বুঝি। সকল পক্ষের ন্যায্য শুনানি নিশ্চিত করে যত দ্রুত সম্ভব এই মামলার নিষ্পত্তি করা হবে।’
তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, চূড়ান্ত রায় পেতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
গত ১৮ জানুয়ারি রাবাতে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে উত্তেজনা চরমে ওঠে। গোলশূন্য অবস্থায় স্টপেজ টাইমে মরক্কোকে পেনাল্টি দেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে সেনেগালের খেলোয়াড়রা কোচ পাপে থিয়াওর নেতৃত্বে প্রায় ১৫ মিনিট মাঠের বাইরে অবস্থান নেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সময় লাগে এবং এক পর্যায়ে দর্শকরাও মাঠে ঢোকার চেষ্টা করেন।
খেলা পুনরায় শুরু হলে মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াজ-এর পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক এদুয়ার্দো মেন্দি। পরে অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচের একমাত্র গোল করে জয় নিশ্চিত করে সেনেগাল। তবে ম্যাচের আগেই সেনেগালের একটি গোল বাতিল এবং পরবর্তীতে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়।
মাঠে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় প্রাথমিকভাবে সেনেগালকে ১০ লাখ ডলারের বেশি জরিমানা করে সিএএফ এবং খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে আপিল বোর্ড ফলাফলই বদলে দেয়, যা এখন বড় আইনি লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে।
সব মিলিয়ে, মাঠের লড়াই শেষ হলেও আফকনের শিরোপা নিয়ে সেনেগাল ও মরক্কোর বিরোধ এখন আদালতের রায়ে গড়িয়েছে। এখন সবার নজর ক্রীড়া আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

