ছিলেন বলিউডের নায়ক, এখন ১২০০ কোটি রুপির সাম্রাজ্যের অধিপতি

ছিলেন বলিউডের নায়ক, এখন ১২০০ কোটি রুপির সাম্রাজ্যের অধিপতি
বলিউড অভিনেতা বিবেক ওবেরয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ ১,২০০ কোটি রুপি। ছবি: এনডিটিভি।

২০০২ সালে অভিনয়জীবন শুরু করেন বলিউড অভিনেতা বিবেক ওবেরয়। সাথিয়া, কোম্পানি, যুবা, ওমকারা ও শুটআউট অ্যাট লোকহান্ডওয়ালা–র মতো চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সফল উদ্যোক্তা হিসেবেও ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন তিনি।

ভারতের গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গয়না, মদ ও পানীয় শিল্প, রিয়েল এস্টেট এবং শিক্ষা প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করে তিনি প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি রুপির সম্পদের মালিক হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

শৈশব থেকেই ব্যবসার হাতেখড়ি

দুবাই প্রপার্টি ইনসাইডার পডকাস্টে বিবেক জানান, ছোটবেলা থেকেই তার বাবা ও অভিনেতা সুরেশ ওবেরয় তাকে ব্যবসার শিক্ষা দিয়েছেন।

তার ভাষায়, বাবা আমাকে একটি পণ্য দিয়ে বলতেন, এটি কীভাবে বিক্রি করব তার পুরো ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি করতে। ১০ বছর বয়স থেকেই আমি ব্যবসার খুঁটিনাটি বুঝতে শুরু করি, কারণ তখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই পণ্য বিক্রি করতাম।

তিনি বলেন, তার বাবা সবসময় তাকে নিজের সাম্রাজ্য গড়ে তোলার পরামর্শ দিতেন। বাবা বলতেন, ‘আমি ধনী, কিন্তু তুমি নও। তোমাকেও নিজের চেষ্টায় সেখানে পৌঁছাতে হবে।

১৯ বছরেই প্রথম কোম্পানি

বিবেক জানান, অভিনয়ে আসার আগেই তিনি ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। যখন অধিকাংশ তরুণ পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবতেন, তখন তিনি শেয়ারবাজার নিয়ে কাজ করছিলেন।

তার দাবি, মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি নিজের প্রথম প্রতিষ্ঠানের জন্য ৩০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহ করেন। ২৩ বছর বয়সের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি করে দেন এবং বিনিয়োগকারী ও নিজের জন্য উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জন করেন।

পরবর্তীতে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভারতের শেয়ারবাজারে নয়টি কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত (পাবলিক) করতে সহায়তা করেছেন বলেও জানান তিনি। এছাড়া আরও চারটি প্রতিষ্ঠানকে শেয়ারবাজারে আনার পরিকল্পনার কথাও বলেন।

‘অভিনয় ছিল আবেগ, ব্যবসা জীবিকার ভিত্তি’

স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডসে বিবেক বলেন, “ব্যবসা সবসময়ই আমার প্ল্যান বি ছিল। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, সিনেমা হবে আমার ভালোবাসা আর ব্যবসা হবে আমার রুজি-রুটি।”

তার মতে, এই সিদ্ধান্ত তাকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে এবং কোনো গোষ্ঠী বা প্রভাবশালী ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল হতে হয়নি।

ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ড থেকে দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেট

বিবেক জানান, তিনি পুনেভিত্তিক ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ড ব্র্যান্ড সোলিতারিও-তে বিনিয়োগ করেছেন। উদ্যোক্তা রিকি ভাসানদানির মাধ্যমে ব্র্যান্ডটির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। তার দাবি, সাক্ষাৎকারের সময় ব্র্যান্ডটি সাতটি দেশ ও ২৩টি শহরে কার্যক্রম পরিচালনা করছিল এবং এর বার্ষিক আয় প্রায় ১০০ কোটি রুপির কাছাকাছি ছিল।

তিনি আরও জানান, ব্যবসার সুযোগের কারণে দুবাইয়ে বিনিয়োগ শুরু করেন। কোভিড-১৯ মহামারির সময় ছয় মাসের পরীক্ষামূলকভাবে পরিবার নিয়ে সেখানে গেলেও পরে স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেন।

২০২৫ সালের এপ্রিলে তিনি দাবি করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে তার রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান বিএনডব্লিউ ডেভেলপমেন্টস প্রায় ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের সম্পদ উন্নয়ন করছে এবং প্রতিষ্ঠানটির কোনো ঋণ নেই।

বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ

২০২৫ সালের মে মাসে বিবেক যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রিমিয়াম স্কটিশ মদ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রাটল্যান্ড স্কয়ার স্পিরিটস লিমিটেড-এ ২১ শতাংশ শেয়ার কেনেন। প্রতিষ্ঠানটি চা-সংমিশ্রিত জিন উৎপাদন করে এবং এর মূল্য প্রায় ৩ কোটি পাউন্ড বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আউটলুক বিজনেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিবেক জানান, তিনি ৩০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছেন এবং এর মধ্যে ১১টির বেশি বিনিয়োগ থেকে সফলভাবে বেরিয়ে এসেছেন। বর্তমানে তার বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ডিপ টেক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), লাইফ সায়েন্স এবং লাইফস্টাইলভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

সূত্র: এনডিটিভি।

এমএমআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন