দলীয় সাফল্য এবার অধরাই থেকেছে, কিন্তু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে আলো ছড়িয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। রিয়াল মাদ্রিদ ও ফ্রান্সের জার্সিতে গোলের পর গোল করে ২০২৬ ব্যালন ডি’অর জয়ের অন্যতম বড় দাবিদার হয়ে উঠেছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। ক্লাব কিংবা জাতীয় দলের হয়ে শিরোপা না জিতলেও ব্যক্তিগত অর্জনের জোরেই পুরস্কারটি নিজের করে নেওয়ার আশা করছেন তিনি।
গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা ৫৮। এর মধ্যে লা লিগায় ২৫ এবং চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৫ গোল করে দুই প্রতিযোগিতারই সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন তিনি। এরপর ২০২৬ বিশ্বকাপেও গোলের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন ফরাসি তারকা। আসরে ১০ গোল করে জেতেন গোল্ডেন বুট। পাশাপাশি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২২ গোলের রেকর্ডও এখন তাঁর দখলে।
ব্যক্তিগত অর্জনে এতটা উজ্জ্বল হলেও দলীয় সাফল্যের হিসাবটা এমবাপ্পের পক্ষে নেই। গত মৌসুমে কোনো শিরোপাই জিততে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ। অন্যদিকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নেয় ফ্রান্স। ফলে ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে দলীয় ট্রফির অভাব তাঁর জন্য বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে।
তবে এমবাপ্পের বিশ্বাস, ব্যালন ডি’অর মূলত ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি। তাই দলীয় শিরোপা না থাকলেও মাঠের অবদান, গোলসংখ্যা ও ধারাবাহিকতার বিচারে নিজেকে পুরস্কারটির যোগ্য দাবিদার মনে করেন তিনি।
এমবাপ্পের সামনে অবশ্য কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাও রয়েছে। বায়ার্ন মিউনিখের হ্যারি কেইন গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে করেছেন ৭৩ গোল। গোলসংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও চ্যাম্পিয়নস লিগ ও বিশ্বকাপে এমবাপ্পের পারফরম্যান্স তাঁকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালও রয়েছেন সম্ভাব্য বিজয়ীদের আলোচনায়।
আজ লন্ডনে বসছে ২০২৬ ব্যালন ডি’অরের জমকালো আসর। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে প্রথমবারের মতো এই পুরস্কার জিততে পারবেন কি না এমবাপ্পে, সেই উত্তর মিলবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। দলীয় শিরোপার ঘাটতি পেরিয়ে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যই শেষ পর্যন্ত তাঁকে সেরার মুকুট এনে দেয় কি না, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

