আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন করে মানবাধিকার ইস্যু সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ফুটবলভক্ত, সাংবাদিক এবং অভিবাসী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ফিফাকে চিঠি দিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। মানবাধিকার ও ক্রীড়া সংগঠনগুলোর জোট স্পোর্ট অ্যান্ড রাইটস অ্যালায়েন্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে অংশ নিতে আসা বিদেশি নাগরিক, শ্রমিক, সাংবাদিক ও সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের কড়াকড়ি ভিসা ও অভিবাসন নীতিমালা বিশ্বকাপের সময় বিভিন্ন দেশের মানুষের চলাচল ও কাজের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
এই উদ্বেগের বিষয়গুলো তুলে ধরে তারা চিঠি পাঠিয়েছে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ফুটবল বিশ্বকে একত্রিত করার শক্তি রাখে, তবে কোনো দেশের ভিসা নিষেধাজ্ঞা বা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হলে বিদেশি নাগরিক, শ্রমিক, সাংবাদিক ও সমর্থকরা ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
আগামী জুন-জুলাইয়ে প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণে বিশ্বকাপ আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। তিন দেশের ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে এই মেগা টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো। তবে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ও ভ্রমণসংক্রান্ত কড়াকড়ি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হোয়াইট হাউস বলেছে, প্রশাসন একটি সফল বিশ্বকাপ আয়োজনের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন একটি বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চান যেখানে ইতিহাসের অন্যতম সেরা নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, বিশ্বকাপ শুরুর আর অল্প সময় বাকি থাকলেও অধিকাংশ আয়োজক শহর এখনো তাদের মানবাধিকার পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি। তাদের সতর্কবার্তা, সম্ভাব্য মানবাধিকার ঝুঁকি চিহ্নিত করে আগে থেকেই সমাধানের উদ্যোগ না নিলে এমন একটি বৈশ্বিক আসর আয়োজন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

