মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ পদে নিয়োগপ্রাপ্ত লাল মোহাম্মদকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে অভিযোগ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির সচেতন অভিভাবক ফোরাম।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ সচেতন অভিভাবক ফোরামের আহ্বায়ক ড. হেলাল উদ্দিন এই নিন্দা জানিয়ে বলেন, আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ-মতিঝিল দেশের একটি স্বনামধণ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানে একজন দুর্নীতিগ্রস্ত, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর, নৈতিকতাহীন ব্যক্তিকে কোনভাবেই অধ্যক্ষ হিসেবে গ্রহন করা যায় না।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফের অনুসারী কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক লাল মোহাম্মদ দুর্নীতির বরপুত্র। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দুর্নীতিগ্রস্ত লাল মোহাম্মদের আমলনামা সামনে আসতে শুরু করে। তার দুর্নীতি, অনিয়ম এবং আওয়ামী লীগের ক্ষমতার প্রভাব বিস্তারের সংবাদ ইতোপূর্বে গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে।
পরবর্তীতে দুর্নীতির দায়ে লাল মোহাম্মদকে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক পদ থেকে ওএসডি করা হয়। সেই লাল মোহাম্মদকেই মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগ করার অর্থ হচ্ছে আগামী প্রজন্মকে দুর্নীতির ছাত্র হিসেবে তৈরি করা! যেটি জাতির জন্য বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, আমরা মনে করি সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের সমর্থনে এবং প্রশাসনে মোটা অংকের টাকা দিয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর লাল মোহাম্মদ, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ বাগিয়ে নিয়েছে।
তাই সুষ্ঠু তদন্ত করে লাল মোহাম্মদের নিয়োগ বাতিল করতে তিনি সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসরকে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকেরা মেনে নেবে না। শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে বলেও তিনি সরকারকে সতর্ক করেন।
অভিভাবক ঐক্য ফোরাম
মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে বিসিএস ( শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তাকে প্রেষনে অধ্যক্ষ পদে এবং মিরপুরের মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৫ টি শাখায় শাখা প্রধান পদে সহযোগী অধ্যাপককে নিযুক্ত করায় শিক্ষা মন্ত্রী ও শিক্ষা সচিব মহোদয়কে অভিনন্দন ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন অভিভাবক ঐক্য ফোরাম সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিয়াউল কবির দুলু।
একইসঙ্গে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজেও বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারের অধ্যাপককে অধ্যক্ষ পদে নিযুক্ত করারও দাবি জানান।
বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, এসব দেশসেরা স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পতিত স্বৈরাচারের কোন দোসর যাতে অধ্যক্ষ পদে টাকার লেনদেনের বিনিময়ে প্রেষনে নিয়োগ না পায় সেদিকে শিক্ষা মন্ত্রীও শিক্ষা সচিবকে বিশেষভাবে নজর রাখার অনুরোধ করছি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

