ভোলার মেঘনা নদীর তীর ধসে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যসহ দুই বন্ধুর সন্ধান মেলেনি। তাদের উদ্ধারে স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল অভিযান চালাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ দুজন হলেন- ভোলা পৌরসভার কালিবাড়ি রোড এলাকার ইব্রাহিমের ছেলে বিজিবি সদস্য মো. আমজাদ (২৮) এবং ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের শান্তিরহাট বাজার এলাকার সর্দার বাড়ির বাবুলের ছেলে মো. রাকিব (২৬)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল বুধবার সন্ধ্যার পর আমজাদ, রাকিবসহ পাঁচ বন্ধু ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের মাছঘাট এলাকার ‘গরিবের দুবাই’ নামের স্থানে মেঘনা নদীর তীরে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদীতীর রক্ষায় বসানো জিও ব্যাগসহ তীরের একটি অংশ হঠাৎ ধসে নদীতে পড়ে। এতে পাঁচজনই খরস্রোতা মেঘনায় পড়ে যান।
তাদের মধ্যে তিনজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। আমজাদ ও রাকিব নদীতে নিখোঁজ হন। পরে বেঁচে যাওয়া তিনজনের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে তাদের খোঁজ শুরু করেন। সন্ধান না পেয়ে পরে কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত যৌথভাবে অভিযান চালানো হলেও নিখোঁজ দুজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে আজ বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও বরিশাল থেকে আসা ডুবুরি দল নতুন করে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কিন্তু তাতেও তাঁদের সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজদের স্বজনেরা নদীর তীরে অপেক্ষা করছেন। সময় যত গড়াচ্ছে, তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আহাজারি বাড়ছে। আমজাদের মা ছেলের অপেক্ষায় বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন এবং জ্ঞান হারাচ্ছেন বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন।
আমজাদ চার বছর আগে বিজিবিতে যোগ দেন। দুই বছর আগে তিনি বিয়ে করেন। তার স্ত্রী বর্তমানে প্রায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। দুই মাসের ছুটিতে তিনি বাড়িতে এসেছিলেন। বাড়িতে এলে বন্ধুদের নিয়ে প্রায়ই নদীর তীরে ঘুরতে যেতেন বলে স্বজনেরা জানান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আমজাদের বন্ধু ফাহিম বলেন, আমজাদও তীরে ওঠার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু রাকিব সাঁতার জানতেন না। তিনি আমজাদকে জড়িয়ে ধরলে স্রোতের টানে দুজনই তলিয়ে যান।
উদ্ধার অভিযান দেখতে সকাল থেকে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ নদীর তীরে ভিড় করেন। এ সময় নিখোঁজ দুই যুবকের জন্য অনেককে আক্ষেপ করতে দেখা যায়। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
এদিকে উদ্ধার অভিযানে কোস্টগার্ডের যথেষ্ট সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন নিখোঁজ আমজাদের চাচা হাফেজ মাওলানা ইয়াকুব। তিনি বলেন, নদীতে নিরাপত্তা দেওয়াই কোস্টগার্ডের দায়িত্ব। কিন্তু তারা কোনো ধরনের সহায়তা করেননি।
ভোলার ইলিশা নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আশিকুর রহমান নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিখোঁজ দুইজনের সন্ধানে নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, ডুবুরি দল ও কোস্টগার্ড নদীতে উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

