বিশ্বকাপসহ ফিফার বাণিজ্যিক কার্যক্রমে নতুন কাঠামো আনার পরিকল্পনা ঘিরে বিশ্ব ফুটবলে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যে অবশেষে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে ফিফা। উয়েফার ৫৫ সদস্য এবং কনকাকাফ অঞ্চলের আরও ৪১ সদস্য সংস্থা প্রস্তাবটির বিরোধিতা করার পর শুক্রবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, তাদের লক্ষ্য কোনোভাবেই ফুটবল বা বিশ্বকাপের মালিকানা বিক্রি করা নয়; বরং সদস্য দেশগুলোর জন্য আরও বেশি উন্নয়ন তহবিল ও বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরি করা।
বিবৃতিতে ফিফা জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ সম্পূর্ণভাবে ফিফার মালিকানাধীন একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান হবে। এর মাধ্যমে ফিফার বাণিজ্যিক ও ইভেন্ট পরিচালনা কার্যক্রম আরও দক্ষভাবে পরিচালনা করা হবে। সংস্থাটির দাবি, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদনের কারণে পরিকল্পনাটি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে এবং নির্ধারিত পরামর্শ প্রক্রিয়াও ব্যাহত হয়েছে। তাই সব সদস্য সংস্থার মতামত নিয়েই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ফিফা আরও স্পষ্ট করে বলেছে, ‘কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না। এটি এমন কোনো বিষয় নয়, যা ফিফা কখনো বিবেচনা করবে।’ সংস্থাটির মতে, ২১১ সদস্য দেশের প্রত্যেকেরই প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে নিজেদের মতামত দেওয়ার অধিকার রয়েছে। কোনো একটি কনফেডারেশন পুরো সদস্যপদকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না বলেও মন্তব্য করেছে তারা।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৭ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতিটি সদস্য সংস্থা ফিফা ফরোয়ার্ড ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচির আওতায় ২ কোটি মার্কিন ডলার উন্নয়ন সহায়তা পাবে। পাশাপাশি ‘'ফিফা ফাস্ট ফরোয়ার্ড প্রোগ্রাম’ নামে আরও ২ কোটি ডলারের একটি ঐচ্ছিক এককালীন উন্নয়ন তহবিল গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে ফিফা জানিয়েছে, সদস্য দেশগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন না পেলে এই নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে না। অর্থাৎ বিতর্কিত এফএফই প্রস্তাব অনুমোদন, সংশোধন বা বাতিল—সবকিছুর সিদ্ধান্তই হবে সদস্য দেশগুলোর ভোটের ভিত্তিতে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

