সাফের সূচি চূড়ান্ত ও লোগো উন্মোচন

আবার শিরোপা জিততে চায় বাংলাদেশ

আবার শিরোপা জিততে চায় বাংলাদেশ

২০০৩ সালের ১৭ জানুয়ারি, তৎকালীন বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা হয়। প্রথমবারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন আমিনুল, আলফাজরা। ফাইনাল ম্যাচটি নির্ধারিত সময় ১-১ গোলে ড্রয়ের পর মালদ্বীপকে টাইব্রেকারে ৫-৩ ব্যবধানে হারিয়ে জানুয়ারির সেই শীতল সন্ধ্যায় দেশকে এক মহা উৎসবের উপলক্ষ এনে দেন তারা। এরপর অনেক সময় গড়াল, ক্যালেন্ডারের পাতা বদলেছে, কিন্তু শিরোপার মুখ আর দেখা হলো না বাংলাদেশের। এখন পর্যন্ত সাফে বাংলাদেশের একমাত্র শিরোপা এটিই। এবার ২৩ বছর ধরে শিরোপা খরা কাটিয়ে ওঠার দারুণ সুযোগের সামনে বাংলাদেশ।

আগামী ৪-১৭ নভেম্বর ঢাকায় বসবে টুর্নামেন্টের ১৫তম আসর। ২০২৫ সালে আসরটি হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় টুর্নামেন্টটি পিছিয়েছে। ২০০৩, ২০০৯ ও ২০১৮ সালের পর চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে হচ্ছে সাফ। ইতোমধ্যে গত ২৫ জুলাই টুর্নামেন্টের লোগো উন্মোচন হয়েছে। আর ১ আগস্ট টুর্নামেন্টের ড্র হওয়ার কথা রয়েছে। সাফের দামামা যখন বেজে উঠল, তখনই আশার গতি সঞ্চার হয়েছে দেশের ফুটবলে। কেননা কয়েক বছরে পুরোপুরি বদলে গেছে বাংলাদেশ দল। দেওয়ান হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, ফাহামিদুল ইসলাম, কিউবা মিচেলেদের মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড়রা জাতীয় দলে যোগ দিয়েছেন। প্রবাসী আর দেশীয় ফুটবলারদের যে মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে, সেটিই বাংলাদেশ দলের শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণে। দলের সাহসী মানসিকতা, খেলার ধরন আর উজ্জ্বল পারফরম্যান্স মিলে ফুটবলে এখন নতুন এক বাংলাদেশ। এবারই প্রথম সাফের মঞ্চে দেখা যাবে হামজা, শমিত, ফাহামিদুলদের। তাদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা আর খেলার ধরন—সব মিলে আসন্ন টুর্নামেন্টে অনেক শক্তিশালী দল হিসেবেই দাঁড়াবে বাংলাদেশ। সাফে ভারত, নেপাল কিংবা মালদ্বীপের মতো দলগুলো সব সময় শক্ত প্রতিপক্ষ। তবে সাফে দলীয় শক্তি আর হোম কন্ডিশন মিলে সবার চেয়ে এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশই। দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবলে এখন সেরা দলের তকমা পাচ্ছে লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। তাদের ঘিরেই ঘরের মাঠে বাংলাদেশের সামনে আবার সাফের শিরোপা জয়ের হাতছানি।

বিজ্ঞাপন

ইতোমধ্যে এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে লক্ষ্য পূরণ না হলেও সম্ভাবনাময় ফুটবল খেলেছেন হামজা-শমিতরা। ২২ বছর পর ফুটবলে ভারতের বিপক্ষে জয়ের কীর্তি দেখায় তারা। সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ের বিপক্ষে না জিতলেও লড়াকু ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচে ইউরোপের দল সান মারিনোর বিপক্ষে ২-১ গোলে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে তারা। সব মিলে সাফে বাংলাদেশ ফেভারিট হিসেবেই খেলতে নামবে। গতকাল সাফের লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দলের কোচ থমাস ডুলি জানান, চ্যাম্পিয়ন হওয়াই একমাত্র লক্ষ্য তার। বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘অবশ্যই চ্যাম্পিয়ন হতে চাই। শেষ পর্যন্ত জিতব কি না জানি না। তবে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করব।’ ডুলি জানান, সাফে র‌্যাংকিংয়ে আশপাশে থাকা দলগুলোর বিপক্ষেই খেলবে বাংলাদেশ। তাই শিরোপা জেতা অসম্ভব নয়। জাতীয় দলের তারকা খেলোয়াড় তপু বর্মণ ও শেখ মোরসালিনরাও সাফের শিরোপা জয়ের স্বপ্নের কথা বলেছেন। তপু বলেন, ‘আমরা আসলে মাঠে সেটা প্রমাণ করতে চাই যে আমরা সবার চেয়ে ভালো এবং আমরা যোগ্য। আমরা তাদের (হামজা, শমিতদের) সঙ্গে ইতোমধ্যে এক বছর খেলেছি এবং জানি যে তাদের মানসিকতা কেমন, বিশেষ করে অনুশীলন, ম্যাচ চলাকালীন…নিশ্চিতভাবে এটা আমাদের কারো জন্য কোনো সমস্যা হয় না।’

বর্তমান বাংলাদেশ দলটি আবার সাফে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো দল বলে মনে করেন ২০০৩ সালের সাফজয়ী দলের তারকা খেলোয়াড় আলফাজ আহমেদ। জাতীয় দলের আক্রমণভাগের এই খেলোয়াড় আমার দেশকে বলেন, ‘আমি মনে করি, প্রবাসীরা (হামজা-শমিতরা) আসায় বাংলাদেশ দল অনেক শক্তিশালী হয়েছে। শক্তি-সামর্থ্য সব দিক থেকেই এখন এগিয়ে। এই দলটি সাফে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতোই।’ আলফাজের মতে, আসন্ন সাফেই বাংলাদেশ শিরোপা পুনরুদ্ধার করবে। সাফের অন্য দলগুলোর চেয়ে কেন এগিয়ে বাংলাদেশ? আলফাজের ব্যাখ্যা, ‘কারণ এ দলটি অনেক দিন ধরে একসঙ্গে খেলছে। দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে খেলার কারণে দলের মধ্যে যে বন্ডিং তৈরি হয়েছে, সেটিই বাংলাদেশকে এগিয়ে দেবে। এটাই বাংলাদেশের মূল শক্তি। আর তাতেই সফল হবে দলটি।’ আলফাজ মনে করেন, হামজা-শমিতদের আগমনে বাংলাদেশ উচ্চপর্যায়ের ফুটবল খেলছে। সাফে এই দলটিকে আটকানোর মতো নয়। সাম্প্রতিক সময়ে যে আশার আলো দেখা গেছে, সাফ জিতেই সেই পূর্ণতা পাওয়ার সময় এখন বাংলাদেশের।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন