আইভরি কোস্টে চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বন্যায় অন্তত ৫৯ জনের প্রাণহানি হয়েছে। প্রাণহানির আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা কর্তৃপক্ষের।
বুধবার দেশটির সরকারের এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন।
রাজধানী আবিদজানে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সরকারের মুখপাত্র আমাদু কুলিবালি বলেন, চলতি বছরে বন্যায় ৫৯ জনের প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে সর্বশেষ বন্যায় ঠিক কতজন মারা গেছেন, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি।
এর আগে গত সোমবার, টানা কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণের ফলে ঘানা ও আইভরি কোস্টের রাজধানীতে বন্যা এবং ভূমিধস দেখা দেয়। এতে অন্তত ২৪ জন নিহত হন এবং অনেকেই নিখোঁজ রয়েছেন।
গত সোমবার ঘানার রাজধানী আক্রা এবং প্রতিবেশী তেমা শহরের বিস্তীর্ণ এলাকার রাস্তাঘাট ও পুরো ভবন পানিতে তলিয়ে যায়। এর ফলে আক্রা ও তেমার বেশ কিছু এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, আইভরি কোস্টের জাতীয় সংহতিবিষয়ক মন্ত্রী মিস বেলমন্ড ডোগো জানিয়েছেন, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় দেশটিতে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে বেশির ভাগ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে দেশটির অর্থনৈতিক রাজধানী আবিদজানের আতেকুবে এবং ইয়োপুগন পৌর এলাকায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারি মুখপাত্র কুলিবালি নাগরিকদের নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলার এবং সরকারের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলো দ্রুত পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকা বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর একটি, যেখানে চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। অথচ বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে মহাদেশটির অবদান তুলনামূলকভাবে খুবই কম। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে প্রতিবছরই প্রাণঘাতী বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটছে।
সূত্র: এএফপি
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


