হতাশ হয়ে চাকরি খোঁজা ছেড়ে দিয়েছে ভারতের ১০ কোটি তরুণ

হতাশ হয়ে চাকরি খোঁজা ছেড়ে দিয়েছে ভারতের ১০ কোটি তরুণ
ছবি: সংগৃহীত।

ভারতে ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে দিল্লির যন্তর মন্তরে জেন-জিদের বিক্ষোভ দিন কয়েক আগেই শেষ হয়েছে। তবে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে একই ধরনের বিক্ষোভ চলছে ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে।

এ দুই আন্দোলনের মূল বিষয়গুলো একই এবং সমস্যাটা যে শুধুমাত্র জেন-জিদের তা কিন্তু নয়; দেশের পুরো তরুণ প্রজন্মই একই সমস্যায় ভুগছে।

বিজ্ঞাপন

অথচ জেন-জিসহ সেই তরুণ শক্তির ওপর ভর করেই ভারত নিজেদের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ থেকে লাভবান হয়ে উন্নত দেশগুলোর তালিকায় যোগ দেওয়ার কথা ভাবে।

‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা জনবিন্যাসভিত্তিক লাভ হলো এমন একটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুযোগ, যেখানে কর্মক্ষম (১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী) মানুষের সংখ্যা কর্মক্ষম নন (১৪-এর কম, ৬৫র বেশি) এমন নাগরিকদের সংখ্যার থেকে বেশি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের জনবিন্যাস থেকে কোনো দেশ তখনই লাভবান হতে পারে, যখন সে দেশের প্রচুর মানুষের হাতে ভালো চাকরি থাকে।

এতে একদিকে যেমন মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে, তেমনি পণ্য ক্রয় ও পরিষেবা ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর আদায়ের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারেও অর্থাগমনের পরিমাণও বাড়ে।

সরকারের কাছে আরো বেশি অর্থ মজুত থাকলে শিক্ষা, অবকাঠামো ও স্বাস্থ্য খাতে বিপুল বিনিয়োগ করা সম্ভব। এ ধরনের বিনিয়োগ দেশের অগ্রগতি, সমৃদ্ধি এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নত করতে পারে।

জনবিন্যাস থেকে লাভ কমে যাওয়ার ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব দেশ কর্মক্ষম নাগরিকদের অর্থাৎ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পেরেছে, তারা এখন নিম্ন বা মধ্যম আয়ের গোষ্ঠী থেকে উচ্চ আয়ের দেশের পর্যায়ে চলে গেছে। চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো এর উদাহরণ।

দেশের ১৫ থেকে ৬৪ বছরের ব্যক্তিদের কর্মক্ষম জনসংখ্যা হিসাবে বিবেচনা করা হয়। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারতে এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় একশো কোটি। কিন্তু, এর মধ্যে মাত্র ৬৭ কোটি মানুষের কাছে কর্মসংস্থান রয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের বেকারদের মধ্যে ৮০ শতাংশই যুব সম্প্রদায়ের।

অর্থাৎ বিশাল কর্মক্ষম জনসংখ্যার জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে ভারত।

অর্থনীতি, পাবলিক পলিসি, শ্রম বাজার এবং শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের যুব সম্প্রদায়ের সামনে একটা সুন্দর জীবনের সুযোগ ক্রমাগত কমে আসছে।

বিশেষত স্নাতক বা উচ্চতর ডিগ্রিধারী এবং পেশাদার ডিগ্রি রয়েছে এমন তরুণদের জন্য ভাল চাকরির সংখ্যা কমে আসছে।

অথচ একটা ডিগ্রি বা উচ্চশিক্ষা উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ বা ভাল জীবন ধারণের নিশ্চয়তা এনে দেয়, এমনটাই এক সময় ভাবা হতো ভারতে।

সমস্যা হলো, একদিকে যেমন স্নাতক বা উচ্চতর ডিগ্রিধারী যুবকদের জন্য দেশে সরকারি চাকরি নেই তেমনই বেসরকারি ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থানের সুযোগও কম।

স্নাতকদের মধ্যে বেকারত্বের হার দেশের স্বল্পশিক্ষিত যুবকদের তুলনায় নয় গুণ বেশি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য রথীন রায় সম্প্রতি ‘ইকোনমিক টাইমস’-এর এক প্রবন্ধে লিখেছেন, ‘একটা ভাল ডিগ্রি মানেই যে ভাল চাকরি পাওয়া যাবে, তা কিন্তু নয়। ভারতে জেন-জিদের অনেকেই তাদের প্রথম বেতন থেকে আয়কর দেয় না কারণ তাদের আয়ই অত নয়।’

তিনি আরো লিখেছেন, ‘অতীতে তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রের চাকরি যুবস্পম্প্রদায়ের কাছে একটা বড় ভরসার জায়গা ছিল। কিন্তু এখন এআই তাদের জায়গা কেড়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে উৎপাদন খাতে মজুরিও খুবই কম।’

তিনি বলেন, ‘এমন কি অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের কারখানায় যারা কাজ করেন, অনেক সময়ে তাদের রোজগার ধনী পরিবারের গৃহকর্মীদের থেকেও কম। নেপো কিডস ছাড়া প্রায় পুরো জেন-জি প্রজন্মই এই একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। তাই এটা তরুণদের মধ্যে অসন্তোষের অন্যতম বড় কারণ।’

রথীন রায় বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে জেন-জির একটা ভাল চাকরি এবং সুখী জীবনের স্বপ্নটাই ভেঙে যাচ্ছে।’

তার লেখায় ‘নেপো কিডস’ কথার অর্থ হল নেপোটিজম বা স্বজনপোষণের মাধ্যমে যারা তাদের পারিবারিক ব্যবসায় কাজ পায়, তাদের কথা বলা হয়েছে। নেপালের জেন-জি আন্দোলনের সময়ে এই শব্দটি ব্যাপকভাবে পরিচিত হয়ে ওঠে।

কোটি কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি কোথায় গেল

কোটি কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভারতের ক্ষমতায় এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

কিন্তু বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ ভারত এখন কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধির উদাহরণ হয়ে উঠছে।

আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্টেট অব ওয়ার্কিং ইন্ডিয়া ২০২৬’- প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্নাতক ডিগ্রি রয়েছে এমন তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৪০ শতাংশ পর্যন্ত লক্ষ্য করা গিয়েছে। অন্যদিকে, জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৫ থেকে ২৫ শতাংশের মধ্যে।

দ্য প্রিন্টের অর্থনীতি বিষয়ক কনসাল্টিং এডিটর এবং ‘চিন্তন রিসার্চ ফাউন্ডেশন’-এর সহযোগী ফেলো ড. বিদিশা ভট্টাচার্য বলেন, ‘এই পরিসংখ্যানগুলো থেকে স্পষ্টভাবেই কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধির দিকে ইঙ্গিত করে।’

ড. বিদিশা ব্যাখ্যা করেছেন, ‘দেশের জিডিপি বাড়ছে, কিন্তু সেই অনুপাতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। অর্থনীতির ভাষায় একে বলা হয় লো এমপ্লয়মেন্ট ইলাস্টিসিটি অফ গ্রোথ অর্থাৎ দেশ ধনী হচ্ছে, কিন্তু মানুষ সেই হারে চাকরি পাচ্ছেন না।’

সেন্টার ফর মনিটারিং ইন্ডিয়ান ইকনমির তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে ভারতে স্নাতকের সংখ্যা নয় কোটি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, তাদের মধ্যে মাত্র চার কোটি ৯০ লাখ চাকরির সন্ধান করেছেন। এদের মধ্যে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ স্নাতক এখনো বেকার। অর্থাৎ, প্রতি চারজন স্নাতকের মধ্যে একজন বেকার।

ড. বিদিশা ভট্টাচার্য ব্যাখ্যা করেছেন, ‘কর্মক্ষম যুবসম্প্রদায়ের কর্মসংস্থান না হলে তা আমাদের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের ওপরে একটা বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আমাদের অর্থনীতি মানুষের ক্রয়, অর্থাৎ ভোগের উপর নির্ভরশীল। মানুষের কাছে যদি কাজ না থাকে, তবে তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে। এর ফলে বাজারের চাহিদাও হ্রাস পাবে। এই পরিস্থিতি অর্থনীতির জন্য মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।’

উৎপাদন ক্ষেত্রেও চাকরির অভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের মতো বিশাল জনসংখ্যার দেশে শক্তিশালী উৎপাদন ক্ষমতা বড় আকারে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।

তবে উৎপাদন খাত যে পরিমাণ অগ্রগতি অর্জন করবে বলে আশা করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়িত হয়নি।

শুধু তাই নয়, এদিক থেকে উৎপাদন খাতে ভারত প্রতি বছর পিছিয়ে পড়ছে।

জিডিপিতে উৎপাদনে সেক্টরের অবদান ২০১৪-১৫ সালে ছিল প্রায় ১৭ শতাংশ। কিন্তু, ২০২৪ সালের মধ্যে, তা ১২ শতাংশতে নেমে আসে।

তবে ড. বিদিশা ভট্টাচার্যের মতে, এর পিছনে কিছু ঐতিহাসিক কারণ রয়েছে।

তার মতে, ১৯৯১ সালে অর্থনৈতিক সংস্কার শুরু হওয়ার পর, ভারতের অর্থনীতি ও কৃষি থেকে সরাসরি সার্ভিস সেক্টর বা পরিষেবা ক্ষেত্রে পৌঁছিয়ে যায়। সাধারণত, দেশের অর্থনীতি প্রথমে কৃষিতে, তারপরে উৎপাদন এবং তারপরে পরিষেবা ক্ষেত্রের দিকে অগ্রসর হয়। কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে উৎপাদন খাতের পর্বটা বাদ থেকে যায়। এর ফলে, দুর্বল এক উৎপাদন খাতের কারনে ভারত বড় আকারে কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারছে না।

প্রবীণ অর্থনীতিবিদ অরুণ কুমারের মতে, তথ্যপ্রযুক্তি ও অর্থায়ন খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাব বাড়তে থাকায় চাকরির সুযোগ হ্রাস পাচ্ছে। অন্যদিকে, উৎপাদন এবং পরিকাঠামো সেক্টরে যন্ত্রায়ন ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে।

তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, ‘আগে রাস্তা বানানোর জন্য অনেক মানুষ কাজ পেতেন, কিন্তু এখন এই কাজ বুলডোজার, ক্রেন ও জেসিবি দিয়ে কাজ করা হয়।’

অরুণ কুমার আরো বলেছেন, ‘সংগঠিত সেক্টরে পর্যাপ্ত চাকরি নেই এবং সরকার অসংগঠিত সেক্টরের দিকে মনোযোগই দিচ্ছে না। এই সেক্টর বিপুল পরিমাণে কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে। দেশে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও মাইক্রো-উদ্যোগ (মাইক্রো মিডিয়াম অ্যান্ড স্মল এন্টারপ্রাইজেস বা এমএসএমই) সেক্টরের অবস্থাও খারাপ হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের ভুল নীতির কারণে এই সেক্টর ধ্বংস হচ্ছে। ঐতিহ্যগতভাবে, এমএসএমই সেক্টরই সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করত।’

শিক্ষা ব্যবস্থা ও দক্ষতার করুণ অবস্থা

ভারতে কর্মসংস্থানের অভাবের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থা ও দক্ষতা উন্নয়নের করুণ অবস্থাকেও দায়ী করা হচ্ছে।

বিদিশা ভট্টাচার্যর মতে, ‘শিক্ষার্থীরা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে স্বল্পমেয়াদী কোর্স করছে, কিন্তু সেগুলো তাদের চাকরি পেতে যে সহায়ক হচ্ছে না। ভারতে যে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে তার জন্য আরও দক্ষ লোক দরকার।’

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ব্যবস্থা তরুণদের চাকরির জন্য গড়ে তুলতে পারছে না। তাই শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।

দেশে কর্মসংস্থান নিয়ে যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে যে অসন্তোষ এবং ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে, তার একটা বড় অংশ হল স্কিল ডেভলপমেন্ট বা দক্ষতা উন্নয়ন সংক্রান্ত সমস্যা।

ডেভলপমেন্ট ইকনমিস্ট সন্তোষ মেহরোত্রার মতে, যুবসমাজের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের জন্য ভারতের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাই দায়ী।

তার কথায়, ‘দেশে জেন-জি আন্দোলন হচ্ছে কারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে পাঠ্যক্রম রয়েছে সেটা চাকরির বাজারের জন্য প্রয়োজন মতো প্রস্তুত করতে পারছে না।’

তিনি বলেন, ‘অন্যদিকে তারা চাকরি বা উচ্চশিক্ষার জন্য পরীক্ষায় বসেও সমস্যার মুখোমুখি হন। এই পরীক্ষাগুলোর আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে পরিচালিত না হওয়ার কারণে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা ঘটে। এই সমস্ত পরীক্ষা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপণাতেই দুর্নীতির সুযোগ রয়ে গেছে।’

সন্তোষ মেহরোত্রা বলেন, ‘দেশে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা পরিচালনাকারী ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র পর্যাপ্ত কর্মী নেই। বর্তমানে অধিকাংশ কর্মচারী ডেপুটেশন বা অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করছেন। তাই এত বড় দেশে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে দুর্নীতির সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়।’

এই বিশেষজ্ঞর মতে, ভারতে কৃষি ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে বছরে প্রায় এক কোটি ২৫ লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি করা প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে এর অর্ধেক কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে। তাই তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। জেন-জি আন্দোলনের হাত ধরে এই অসন্তোষের আঁচ রাস্তায় দেখা যাচ্ছে।

তিনি জানিয়েছেন, ২০১২ সালের তুলনায় ২০১৭-২০১৮ সালের মধ্যে বেকার স্নাতকদের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের তুলনায় অর্ধেক কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে না।

দেশে দক্ষতা উন্নয়নের জন্য সরকারের যে সমস্ত কর্মসূচি রয়েছে তা প্রত্যাশার অনুরূপ ফল দিচ্ছে না। গত দশ বছরে, এক কোটি ৬০ লাখ মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র ১৫ শতাংশ কাজ পেয়েছে।

এই দক্ষতা উন্নয়ন সংক্রান্ত কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, ‘সরকারি বাবুরা এই সমস্ত দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচালনা করছেন। শিল্পে যে নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে তার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পর্কে তাদের ধারণাই নেই।’

তার কথায়, যারা শিল্প খাতগুলি পরিচালনা করেন, তাদের হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই। যেখানে বেসরকারি সেক্টর ও কোম্পানিগুলোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা, সেখানে সরকারি আমলারা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

সন্তোষ মেহরোত্রা বলেছেন, ‘আইটি এবং আর্থিক পরিষেবা সংক্রান্ত সেক্টর যেখানে উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন কর্মী প্রয়োজন, সেখানে প্রবৃদ্ধির হার কমে গেছে। তাই গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে বেকারত্বও বেড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে হতাশ হয়ে বিপুল সংখ্যক তরুণ চাকরি খোঁজা ছেড়ে দিয়েছে। আমাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে এই ধরনের যুবকের সংখ্যা ছিল পাঁচ কোটি, এখন তা বেড়ে দশ কোটিতে দাঁড়িয়েছে।’

সূত্র: বিবিসি বাংলা

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন