যথাযথ যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনীয় প্রমাণ ছাড়াই ইউনিয়নে স্থায়ীভাবে বসবাস না করা রোহিঙ্গাদের নামে বেআইনিভাবে জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়ার অভিযোগে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) নজরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রোজি আক্তার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
জেলা প্রশাসনের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ফতেহাবাদ ইউনিয়নে জন্মগ্রহণকারী বা স্থায়ীভাবে বসবাসকারী নয় এমন তিন ব্যক্তির নামে বেআইনিভাবে জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যু করা হয়।
তারা হলেন, মুবিনা খাতুন (সনদ নম্বর: ১৯৭৮১৯১৪০৪৭১৩০১০১), সাইমুন ইসলাম সাজ্জাদ (সনদ নম্বর: ১৯৯৮১৯১৪০৪৭১৩০১০৫) এবং হাফিছা (সনদ নম্বর: ২০০৫১৯১৪০৪৭১৩০১২)। তদন্তে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তিনি নিজের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড অন্য ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। এর মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন সংক্রান্ত কার্যক্রমে চরম অসচেতনতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে অবহেলা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের নির্দেশনার পর তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০১১ অনুযায়ী নজরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে নজরুল ইসলাম কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত রয়েছেন।
এর আগে তিনি দেবিদ্বারের ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আদেশে আরও বলা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন। একই সঙ্গে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি তার চাকরি বহিতেও লিপিবদ্ধ করা হবে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রোজি আক্তার বলেন, নিজের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড অন্য ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করে দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে দেবিদ্বারের ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা নজরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

