ইরান চুক্তিতে বিক্ষুব্ধ ইসরাইল, কাঠগড়ায় নেতানিয়াহু

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

ইরান চুক্তিতে বিক্ষুব্ধ ইসরাইল, কাঠগড়ায় নেতানিয়াহু

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতার খবর প্রকাশের পর ইসরাইলে রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা এই চুক্তিকে ইসরাইলের জন্য কৌশলগত বিপর্যয় বলে অভিহিত করেছেন এবং তাদের ক্ষোভে একমাত্র ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিহুর দিকেই নির্দেশ করেছেন। মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, চুক্তি হোক বা না হোক, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তিনি দাবি করেন, ইরান চেয়েছিল চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরাইল লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করুক, কিন্তু তিনি দৃঢ় অবস্থান নেওয়ায় তা হয়নি।

ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে নেতানিয়াহু বলেন, ‘যতদিন আমি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী আছি, এটি হতে দেওয়া হবে না।’

বিজ্ঞাপন

তবে বিরোধী নেতা ও সাবেক কর্মকর্তারা ভিন্ন মত পোষণ করছেন। তারা প্রাথমিক চুক্তির কঠোর সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে আসন্ন শরতের নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের ওপর এক ধরনের অনানুষ্ঠানিক গণভোটের এর বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষত বিভিন্ন দেশে এবং ক্রমবর্ধমানভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইসরাইলের বিচ্ছিন্নতা নেতানিয়াহুর অবস্থানকে আরো জটিল করে তুলবে।

এছাড়াও ইরান চুক্তি লেবাননে ইসরাইলের অভিযানকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। যদিও ইসরাইল এই চুক্তির পক্ষ নয়, তবুও দেশটি এক ধরনের উভয়সংকটে পড়েছে। ইরান বরাবরই বলে আসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনের যেকোনো চুক্তিতে লেবাননে যুদ্ধবিরতি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। কিন্তু সোমবার, ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ লেবাননে সেনা রাখার অঙ্গীকার করেন। আলোচনা যতই এগোচ্ছিল এবং ট্রাম্প যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছিলেন। তাই বৈরুতে ইসরাইলের হামলায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং সতর্ক করে দেন এই হামলা একটি চুক্তিকে বিপন্ন করতে পারে।

সমালোচকরা বলেন, নেতানিয়াহু এই যুদ্ধ থেকে থেকে যা অর্জন করা সম্ভব, তার চেয়ে বেশি প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রাম্পকে যুদ্ধে জড়ান।

তারা বলেন, নেতানিয়াহু দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রতি ট্রাম্পের আগ্রহ বুঝতে ভুল করেছেন। আর এর ফলে আলোচনায় ইরানের কাছে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল ইসরাইল এবং পরবর্অতীতে অঞ্চলের অন্যান্য প্রধান শক্তিগুলোর কাছেও ক্রমশ উপেক্ষিত হয়ে পড়েন নেতানিয়াহু।

ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহুর ঔদ্ধত্য ও অন্ধত্বের মূল্য দিচ্ছে ইসরাইল, এবং ট্রাম্পের ওপর তিনি যে কারসাজি করার চেষ্টা করেছিলেন তারও মূল্য দিচ্ছে। তিনি বলেন, নেতানিয়াহুর ভুল কৌশল ও অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কারণে ইসরাইল দুর্বল অবস্থানে পড়েছে, আর ইরান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইয়ার লাপিদ চুক্তিটিকে ইসরাইলের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতির অন্যতম বড় ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই ব্যর্থতার দায় সম্পূর্ণভাবে নেতানিয়াহুর ওপরই বর্তায়।

বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির ফলে লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযানও জটিল পরিস্থিতিতে পড়তে পারে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় লেবাননে ইসরাইলি হামলা বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছিল। যদিও ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কার্জ বলেছেন, লেবাননে সেনা মোতায়েন অব্যাহত থাকবে।

সমালোচকদের দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কমানো এবং আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ক দুর্বল করার যে লক্ষ্য নিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তার কোনোটিই পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। বরং সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং জব্দকৃত ইরানি সম্পদ মুক্ত হলে তেহরান অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হতে পারে।

এদিকে নেতানিয়াহুর জোট সরকারের কট্টরপন্থী অংশও চুক্তির বিরোধিতা করেছে। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতমার বেন গভির বলেছেন, হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত কোনো ধরনের আপস করা উচিত নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা এখন নেতানিয়াহুর জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নির্বাচনের আগে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন