ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থাকে নিশ্চিহ্ন করতে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ চলছে: জর্ডান

ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থাকে নিশ্চিহ্ন করতে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ চলছে: জর্ডান
ছবি: সংগৃহীত।

ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএকে রাজনৈতিকভাবে বিলুপ্ত করার লক্ষ্যে সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে উচ্চপর্যায়ের এক মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

সাফাদি বলেন, ইউএনআরডব্লিউএ এখনো রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার প্রচেষ্টার লক্ষ্যবস্তু। আমরা যদি সংস্থাটিকে ভেঙে ফেলার সুযোগ দিই, তবে গাজার লাখ লাখ মানুষ—অর্থাৎ ২০ লাখ মানুষ—ক্ষুধা ও তীব্র শীতের কবলে পড়বে এবং শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ হারাবে।

তিনি বলেন, ইউএনআরডব্লিউএর দায়িত্ব অন্য কোনোভাবে স্থানান্তর করা হলে সেটি সংস্থাটিকে বিলুপ্ত করার প্রথম ধাপ হিসেবে কাজ করবে। তাই কোনো হোস্ট দেশই ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রমের দায়িত্ব গ্রহণ করবে না।

জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া দেশগুলো এমনিতেই বড় ধরনের চাপ ও দায়িত্ব বহন করছে। ফলে ইউএনআরডব্লিউএর ওপর অর্পিত কার্যক্রম তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উল্লেখ করেন যে, গাজায় সংস্থাটির কর্মীরা চরম বিপর্যয়ের শিকার হয়েছেন; ইসরায়েলের সাথে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত সংস্থাটির প্রায় ৪০০ কর্মী নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি খলিলুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, মানবিক সেবা প্রদানের জন্য ত্রাণকর্মীদের যেন কখনোই জীবন দিয়ে চরম মূল্য দিতে না হয়।

গুতেরেস জানান, সংস্থাটি বর্তমানে ১০ কোটি (১০০ মিলিয়ন) ডলারের তহবিল ঘাটতি এবং কঠোর প্রশাসনিক বাধার সম্মুখীন হচ্ছে; এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েল কর্তৃক ভিসা প্রদানে অস্বীকৃতি এবং আঞ্চলিক সমন্বয় সভাগুলো থেকে সংস্থাটিকে বাদ দেওয়া। রহমান উল্লেখ করেন যে, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সংস্থাটি তাদের সেবার সময়সীমা ২০ শতাংশ কমাতে বাধ্য হয়েছে এবং এর পাশাপাশি শিক্ষা ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের বেতনও সেই অনুপাতে কমিয়ে আনা হয়েছে।

ইউএনআরডব্লিউএর ভারপ্রাপ্ত কমিশনার-জেনারেল ক্রিশ্চিয়ান সন্ডার্স সেখানকার ভয়াবহ পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে জানান, গাজার ৯৪ শতাংশ বাসিন্দার কোনো সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রের সুবিধা নেই এবং ৯৮ শতাংশ মানুষ খোলা নর্দমার বর্জ্য ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে। সন্ডার্স আরও জানান, নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়ে স্বাধীন 'কোলোনা রিপোর্ট'-এর সুপারিশগুলোর মধ্যে ৮০ শতাংশেরও বেশি বাস্তবায়ন করেছে ইউএনআরডব্লিউএ।

সূ্ত্র: আনাদোলু এজেন্সি

এমএমআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন