ইরানে অভ্যুত্থান ঘটানোর ব্যর্থ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিদেশে পাঠানো মার্কিন সমরাস্ত্রগুলো এখন কোন অবস্থায় আছে, সে বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দৃশ্যত কোনো ধারণাই নেই।
ইরানের অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের কাছে মার্কিন অস্ত্র পৌঁছে দিতে কুর্দি গোষ্ঠীগুলো ব্যর্থ হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নিজের হতাশা প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি এটাও জানান যে, অস্ত্রগুলো শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়েছে তা একেবারেই অস্পষ্ট।
শুক্রবার সাংবাদিকদের কাছে প্রেসিডেন্ট স্বীকার করেন, ‘অস্ত্র সরবরাহে আমি সন্তুষ্ট নই। আমি এতে মোটেও খুশি নই।’
ট্রাম্প বলেন, ‘কিছু অস্ত্র পাঠানো হয়েছিল। আমরা এখন দেখব সেগুলো কার কাছে আছে।’। এ থেকে বোঝা যায় যে সেগুলোর অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ।
তিনি বলেন, ‘কিন্তু কুর্দিরা যা করেছে তাতে আমি খুশি নই। কুর্দিরা অস্ত্রগুলো সরবরাহ করেনি।’
উত্তর ইরাকে অবস্থিত একটি কুর্দি গোষ্ঠীর কাছে অস্ত্রগুলো এই শর্তে পাঠানো হয়েছিল যে, সেগুলো ইরানি বিক্ষোভকারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
ট্রাম্প গত এপ্রিলে প্রথম প্রকাশ করেন যে যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের কাছে অস্ত্র পাঠাচ্ছে। তিনি ফক্স নিউজকে বলেন, ‘আমরা বিক্ষোভকারীদের কাছে প্রচুর অস্ত্র পাঠিয়েছি। আমার মনে হয় কুর্দিরা বন্দুকগুলো নিয়ে নিয়েছে।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী শত শত কোটি ডলারের অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে।
এই সরঞ্জামগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং ২ স্টেলথ ফাইটার। ইরানের দাবি, তারা এই যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে এবং যার মূল্য ৮২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত এক ডজন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস হয়েছে, যার প্রতিটির মূল্য প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার।
প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন যুদ্ধের ব্যয় বহুগুণে বেড়ে গেছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে পেন্টাগনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা কংগ্রেস সদস্যরা জানান, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সিএনএন জানিয়েছে, ধ্বংসপ্রাপ্ত অস্ত্রশস্ত্র ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের হিসাব ধরলে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সম্ভবত ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।
সূত্র: ডেইলি বিস্ট
আএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


যুক্তরাষ্ট্রের চোখে ধুলো দিয়ে ২২ কোটি ডলারের তেল নিয়ে এশিয়ায় ইরান
যুদ্ধ বন্ধে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আরাগচির ফোনালাপ