ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের ত্রিতা পারসি।
আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই অবরোধের অর্থনৈতিক ব্যয় হোয়াইট হাউসের অনুমানের চেয়েও অনেক বেশি হয়ে গেছে।
ত্রিতা পারসি বলেন, ‘ইরান গত ৪৭ বছর ধরে সব ধরনের অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে। এর কোনোটিই ইরানিদের ভাঙতে বা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করতে পারেনি।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, উভয় পক্ষ হয়তো আরো কয়েক সপ্তাহ টিকে থাকতে পারবে, কিন্তু পরিস্থিতি দিনে দিনে আরো খারাপের দিকেই যাবে।
এই অচলাবস্থার কারণে তৃতীয় দেশগুলোর ওপর মানবিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব তীব্র হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন পারসি। উদাহরণ হিসেবে তিনি কুয়েতের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘কুয়েত গত এক মাস ধরে কোনো তেল রপ্তানি করতে পারেনি, গত ৩০ বা ৪০ বছরের মধ্যে এমন ঘটনা আর ঘটেনি।’
তবে চীনসহ প্রভাবশালী শক্তিগুলোর চাপ উভয় পক্ষকে একটি কূটনৈতিক সমাধানের দিকে নিয়ে যেতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জার্মানি থেকে ৫ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি টেনে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র অন্তত কৌশলগতভাবে বড় ধরনের পরাজয়ের শিকার হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, ইউক্রেনীয়রা রাশিয়ার সঙ্গে যা করতে পেরেছে, ইরানিরাও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সেটিই করতে সক্ষম হয়েছে।’
পারসির মতে, এই পরিস্থিতি আমেরিকার ‘নিরাপত্তা ছায়া’র কার্যকারিতা এবং নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলবে।
সূত্র: আলজাজিরা
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

