শিশুদের যৌন নির্যাতনের উপকরণ রাখার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার হয়েছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের অন্যতম উত্তরাধিকারী প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর ও স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়র।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, ফ্লোরিডা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় তার ভাড়া নেওয়া দুটি গুদামঘরে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের সঙ্গে তার যৌন উত্তেজক ছবি পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ অভিযান চালায়। প্রায় দুই দশক ধরে গুদামঘর দুটি ভাড়া নিয়েছিলেন তিনি।
এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল বৃহস্পতিবার বলেন, ‘অভিযোগ রয়েছে, মার্কেল নিরীহ শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিলেন এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের নিষ্পাপ শৈশব কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।’
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর মাসে কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, ফিলিপাইনে মার্কেলের মালপত্রের মধ্যে শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত উপকরণ পাওয়া গেছে বলে এক ব্যক্তি হলফনামায় জানিয়েছেন।
পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরেক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে। ওই ব্যক্তি জানান, ২০০৮ সাল থেকে ৮২ বছর বয়সী মার্কেল লস অ্যাঞ্জেলেসের কাছে একটি গুদামঘর ভাড়া নিয়ে আসছেন। প্রথম ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে দ্বিতীয় গুদামঘরটিরও সন্ধান পাওয়া যায়।
আদালতের পরোয়ানা পাওয়ার পর এফবিআইয়ের কর্মকর্তারা গুদামঘর দুটিতে তল্লাশি চালান। সেখানে ছবি, ফিল্মের নেগেটিভ ও বইসহ মোট ৭৮টি উপকরণ পাওয়া যায়। এসব উপকরণে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের সঙ্গে মার্কেলের যৌন উত্তেজক দৃশ্য রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিচার বিভাগ।
হলফনামায় তিনটি ছবির বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ছবিতে এক ব্যক্তিকে একেবারে বয়ঃসন্ধিতে না পৌঁছানো নগ্ন মেয়েশিশুর সঙ্গে দেখা গেছে। একজন সাক্ষী ওই ব্যক্তিকে থমাস মার্কেল হিসেবে শনাক্ত করেছেন। তৃতীয় ছবিতে ফিলিপাইনের একটি হোটেলকক্ষের মতো জায়গায় এক নগ্ন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে দেখা গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ে পোশাক খোলা অবস্থায় শিশুদের সঙ্গে মার্কেলের ছবি থাকার কথাও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুরদিকে ফিলিপাইনে অবস্থান করছিলেন থমাস মার্কেল। সেখানে স্ট্রোক করার পর তাঁর বাঁ পা কেটে ফেলতে হয়। এরপর তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যেতে হয়।
‘গভীরভাবে মর্মাহত’ মেগান
বাবার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে গত অক্টোবর মাসে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মেগান জানিয়েছিলেন, ২০১৮ সালে প্রথম তিনি এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে পারেন। সে সময় তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগে অভিযোগের বিস্তারিত জানিয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল।
ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য সান-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর প্রসঙ্গ টেনে মেগান বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় সামনে আসা খবর আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। যেসব শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে, তাদের কথা ভেবে আমার মন খারাপ হচ্ছে।’
সূত্র: আলজাজিরা
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


