লাটভিয়ার নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেল ক্ষমতাসীন দল

লাটভিয়ার নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেল ক্ষমতাসীন দল
আন্দ্রিস কুলবার্গস। ছবি: সংগৃহীত

লাটভিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রিস কুলবার্গসের মধ্যপন্থি ও ইউক্রেনপন্থি দল ইউনাইটেড লিস্ট।

বিজ্ঞাপন

রোববার ৮২ শতাংশ ভোটকেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে দলটি ৩৫ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়েছে।

কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জনতুষ্টিবাদী দল লাটভিয়া ফার্স্ট। দলটি পেয়েছে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট। তৃতীয় অবস্থানে থাকা সোভারেন পাওয়ার পেয়েছে ১১ শতাংশ ভোট।

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীন হওয়ার পর এটি লাটভিয়ার ১১তম পার্লামেন্ট নির্বাচন। এতে প্রায় ৮ লাখ মানুষ ভোট দিয়েছেন। ভোট পড়েছে ৫১ দশমিক ৭ শতাংশ।

শনিবার স্থানীয় সময় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) অনুযায়ী সকাল ৫টায় ভোট শুরু হয়। বিকেল ৫টায় প্রকাশিত বুথফেরত জরিপেও কুলবার্গসের ইউনাইটেড লিস্ট এগিয়ে ছিল।

চলতি বছরের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটিই ছিল কুলবার্গসের প্রথম নির্বাচনি পরীক্ষা। ইউক্রেন থেকে আসা বিচ্ছিন্ন ড্রোন অনুপ্রবেশ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে তার পূর্বসূরি পদত্যাগ করার পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন।

কুলবার্গসের প্রধানমন্ত্রী পদ ধরে রাখার সম্ভাবনা আগে থেকেই জোরালো ছিল। তবে তার বর্তমান জোট সরকারের দুই শরিক দলের সমর্থন কমে যাওয়ায় নতুন সরকার গঠনে তাকে জটিল আলোচনায় যেতে হতে পারে।

তবে নির্বাচনের ফল লাটভিয়ার ইউরোপপন্থি ও ইউক্রেনপন্থি অবস্থানে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে না।

লাটভিয়ার রাজনীতি বেশ খণ্ডিত। দেশটির দলগুলো সাধারণত ২০ শতাংশের বেশি ভোট পায় না। ফলে জোট সরকার গঠনই সেখানে স্বাভাবিক বিষয়। এবারের নির্বাচনে ১৪টি দল ও জোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে ধারণা করা হয়েছিল, এর মধ্যে সাতটি দল পার্লামেন্টে প্রবেশ করতে পারে। বাকিদের ৫ শতাংশের ন্যূনতম ভোটের বাধা পার হওয়ার সম্ভাবনা কম ছিল।

নির্বাচনি প্রচারে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি, স্বাস্থ্যসেবা খাতের চাপ এবং দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

জোট গঠনে সমীকরণ কঠিন

নির্বাচনে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা লাটভিয়া ফার্স্ট কুলবার্গসের সম্ভাব্য জোটসঙ্গী হতে পারে। দলটি ইউক্রেনপন্থি এবং জনতুষ্টিবাদী জাতীয়তাবাদী হিসেবে পরিচিত।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা সোভারেন পাওয়ারও ইউক্রেনের জয়ের পক্ষে। তবে দলটির দাবি, কিয়েভকে সহায়তায় ব্যয় করা অর্থ দেশের ভেতরেই বেশি কাজে লাগানো উচিত। দলটির সঙ্গে জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল।

বাল্টিক দেশগুলোর মধ্যে লাটভিয়াই সবচেয়ে দরিদ্র। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর পর দেশটি প্রতিরক্ষা ব্যয় ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। বর্তমানে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষায় ব্যয় করছে লাটভিয়া।

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন