ভারতের বিহারে নতুন খসড়া ভোটার তালিকা ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নতুন খসড়া তালিকায় রাজ্যের ৪০টি লোকসভা আসনের মধ্যে ২৪টিতেই বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় অনেক কম। সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালের এক প্রতিবেদনে বলা হয় এই বাদ পড়া ভোটাররা থাকলে ফলাফল অন্য রকম হতে পারতো অর্ধেকের বেশি আসনে।
সোমবার বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, কয়েকদিন আগে ভারতের নির্বাচন কমিশন বিহার রাজ্যের হালনাগাদ খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কর্মকর্তারা রাজ্যের তালিকাভুক্ত ৭৮ দশমিক ৯ মিলিয়ন ভোটারের প্রত্যেকের বিবরণ যাচাই করার জন্য পরিদর্শন করেছেন। কমিশন জানিয়েছে, এ ধরনের সংশোধন সবশেষ হয়েছিল ২০০৩ সালে এবং এটি হালনাগাদ করার প্রয়োজন ছিলো।
নতুন খসড়া তালিকায় ৭২ দশমিক ৪ মিলিয়ন নাম রয়েছে, যা আগের তুলনায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন অর্থাৎ প্রায় ৬৫ লাখ কম। কমিশন বলছে, বাদ দেওয়া নামগুলোর মধ্যে রয়েছে ২২ লাখ মৃত, সাত লাখ একাধিকবার তালিকাভুক্ত এবং ৩৬ লাখ রাজ্য থেকে আসা অভিবাসী।
বিরোধীদের অভিযোগ, এত কম সময়ে তালিকা তৈরি করতে গিয়ে তাড়াহুড়ো করায় একাধিক অনিয়ম ঘটেছে।
বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করেছে, কমিশন আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভারতীয় জনতা পার্টির যাতে সুবিধা পায় সেজন্য অনেক ভোট বিশেষ করে চারটি সীমান্তবর্তী জেলার উল্লেখযোগ্য অংশ নতুন তালিক থেকে বাদ পড়েছে।
কমিশন বাদ পড়া ভোটারদের নামের তালিকা প্রকাশ করেনি, সেইসঙ্গে তারা কোন ধর্মের তার উল্লেখ করেনি।
হিন্দুস্তান টাইমমের একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিহারের সবচেয়ে বেশি মুসলিম অধ্যুষিত জেলা কিষাণগঞ্জে ভোটারদের তালিকা বাদ দেওয়ার হার বেশি।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি। বিবিসির প্রশ্নের জবাবে, নির্বাচন কমিশন এসআইআর পরিচালনার বিষয়ে তাদের ২৪ জুনের আদেশ এবং ২৭ জুলাইয়ের একটি প্রেস নোট শেয়ার করেছে, যেখানে কোনো যোগ্য ভোটার যেন বাদ না পড়েন সে বিষয়ে রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, আনন্দবাজার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিহারের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে যে ৬৫ লাখ নাম বাদ পড়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়ে মামলা দায়ের হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। গত বুধবার শীর্ষ আদালতের তিন বিচারপতির বেঞ্চ এ বিষয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের জবাব তলব করেছে।
চলতি বছরেই বিহারে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে সে রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য ‘বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা’ (এসআইআর) চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। গত ১ অগস্ট একটি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে তারা। ওই খসড়া তালিকা থেকে ৬৫ লাখ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। মামলাকারীর দাবি, কোন ৬৫ লাখের নাম বাদ পড়েছে, সেই তালিকা দেওয়া হয়নি।
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন



