পাঁচ অঙ্গরাজ্যে বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছেন ট্রাম্পবিরোধীরা

পাঁচ অঙ্গরাজ্যে বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছেন ট্রাম্পবিরোধীরা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। এ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর পদে হেরেছেন রিপাবলিকান পার্টির পাঁচ প্রার্থী, যারা ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের বিজয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কিংবা তার বিজয় ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন চারজন কংগ্রেস সদস্য এবং একজন ধনকুবের ব্যবসায়ী।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবারের নির্বাচনে অ্যারিজোনায় কংগ্রেস সদস্য অ্যান্ডি বিগস, মিশিগানে কংগ্রেস সদস্য জন জেমস, পেনসিলভানিয়ায় অঙ্গরাজ্যের কোষাধ্যক্ষ স্টেসি গ্যারিটি এবং উইসকনসিনে কংগ্রেস সদস্য টম টিফানি গভর্নর পদে পরাজিত হয়েছেন। জর্জিয়ায় হেরেছেন ধনকুবের ব্যবসায়ী রিক জ্যাকসন। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল পাল্টে দিতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এই অঙ্গরাজ্যের।

এই পাঁচ প্রার্থীই ২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বাইডেনের বিজয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন অথবা সেই বিজয় ঠেকাতে ভোট দিয়েছিলেন।

জ্যাকসন একসময় বাইডেনের জয়কে ‘পুরোপুরি হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। ট্রাম্পের অতিরিক্ত ভোট ‘খুঁজে বের করার’ দাবিতে সাড়া না দেওয়ায় জর্জিয়ার অঙ্গরাজ্য সরকারের কর্মকর্তাদেরও সমালোচনা করেছিলেন তিনি।

চলতি বছরের শুরুর দিকে নির্বাচনি প্রচারের একটি অনুষ্ঠানে ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জ্যাকসন বলেন, ‘আমাদের লোকজন সত্যিই আমাদের হতাশ করেছে।’

২০২১ সালের জানুয়ারিতে কংগ্রেস সদস্য হিসেবে বিগস ও টিফানি ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল বাতিলের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। এ ছাড়া জর্জিয়া, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া ও উইসকনসিনের নির্বাচনী ফল অবৈধ ঘোষণার দাবিতে করা একটি মামলাতেও তারা স্বাক্ষর করেছিলেন। ওই চারটি অঙ্গরাজ্যেই বিতর্কিত ওই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন বাইডেন।

জন জেমস অবশ্য ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল অনুমোদনের সময় কংগ্রেস সদস্য ছিলেন না। ওই নির্বাচনে তিনি সিনেট সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে গিয়েছিলেন। পরে ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

২০২২ সালে তিনি বাইডেনের বিজয় স্বীকার করেছিলেন। তবে গত জুনে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন জেমস। পডকাস্টার বেনি জনসনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ২০২০ সালের নির্বাচনকে ‘কারচুপি ও প্রভাবিত’ বলে মন্তব্য করেন।

পেনসিলভানিয়ার বর্তমান কোষাধ্যক্ষ স্টেসি গ্যারিটিও ২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয়ের ফল পাল্টে দেওয়ার প্রচেষ্টায় যুক্ত হয়েছিলেন। ২০২১ সালের ৫ জানুয়ারি পেনসিলভানিয়ায় ট্রাম্পের এক সমাবেশে অংশ নিয়ে তিনি অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের নির্বাচনের ফল বাতিল করার আহ্বান জানান। এর পরদিনই ট্রাম্পের সমর্থকেরা মার্কিন কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটলে হামলা চালান।

তাদের অভিযোগ ছিল, নির্বাচনে ভোট জালিয়াতি হয়েছে।

পরে টিফানি, গ্যারিটি ও জ্যাকসন নিজেদের আগের অবস্থান সম্পর্কে বিবৃতি দিয়েছেন কিংবা ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তারা স্বীকার করেছেন, ২০২০ সালের নির্বাচনে বাইডেন জয়ী হয়েছিলেন। তবে বিগস ও জেমস তাদের অবস্থান পরিবর্তনের কথা জানাননি।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে আলজাজিরা তাদের দুজনের কার্যালয়ে যোগাযোগ করেছে। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

২০২৮ সালের নির্বাচনেও প্রভাব পড়তে পারে

মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছর শুরু হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, তিনি আর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। ফলে রিপাবলিকান পার্টির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কে হবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

অ্যারিজোনা, জর্জিয়া, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া ও উইসকনসিন—এই পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে দুই দলের প্রার্থীরাই জয় পেয়েছেন। ফলে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এসব অঙ্গরাজ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোটাধিকার, নির্বাচন পরিচালনা এবং কংগ্রেসের নির্বাচনি এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের মতো বিষয়ে গভর্নরদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

গত দেড় বছরে কংগ্রেসের নির্বাচনি এলাকার সীমানা নতুন করে নির্ধারণের জন্য অঙ্গরাজ্যগুলোর নেতাদের ওপর চাপ দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। তার লক্ষ্য, এভাবে রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ বাড়ানো।

এর জবাবে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজমের নেতৃত্বে কয়েকটি ডেমোক্র্যাট-শাসিত অঙ্গরাজ্যও নিজেদের নির্বাচনি এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের পর এ উদ্যোগ কতটা এগোবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ইতোমধ্যে জর্জিয়ার রিপাবলিকান গভর্নর ব্রায়ান কেম্প জানিয়েছেন, তার ডেমোক্র্যাট উত্তরসূরি কিশা ল্যান্স বটমস দায়িত্ব নেওয়ার আগে কংগ্রেসের নির্বাচনি এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণে অঙ্গরাজ্যের আইনসভার বিশেষ অধিবেশন ডাকবেন না। মেয়াদের সীমাবদ্ধতার কারণে এবারের নির্বাচনে গভর্নর পদে প্রার্থী হতে পারেননি কেম্প। বুধবার তিনি এ ঘোষণা দেন।

এদিকে বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলা ট্রাম্প মঙ্গলবার রাতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল মেনে নিতে তিনি ‘সম্পূর্ণ প্রস্তুত’।

কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ার পর দলটির সঙ্গে কাজ করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় থাকব। সম্ভবত একটা সমাধানে পৌঁছাতে পারব।’

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন