কে হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

কে হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষে নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে উঠে এসেছে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নাম। এছাড়া সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রায়নার এবং আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নামও আলোচনায় রয়েছে।

দৌড়ে এগিয়ে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

লেবার পার্টির ভেতরে এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও অ্যান্ডি বার্নহ্যাম অন্যতম জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত। প্রায় দশ বছর ধরে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়রের দায়িত্ব পালন করে তিনি ব্যাপক প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। উত্তর ইংল্যান্ডে তার প্রভাবের কারণে অনেকেই তাকে ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামে অভিহিত করেন।

সম্প্রতি তিনি পার্লামেন্টের একটি আসনে জয়লাভ করে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে তাকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লেবার এমপির সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে।

বার্নহ্যাম অতীতে দুবার লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে ২০১০ সালে এড মিলিব্যান্ড এবং ২০১৫ সালে জেরেমি করবিনের কাছে পরাজিত হন। এর আগে তিনি স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেছেন।

ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের সম্ভাবনা

লেবার সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওয়েস স্ট্রিটিং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি দীর্ঘ সময় ছায়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টসের সভাপতি এবং স্থানীয় কাউন্সিলর ছিলেন।

দলের ভেতরে তিনি দক্ষ বক্তা ও নীতিনির্ধারক হিসেবে পরিচিত। জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় চিকিৎসার জন্য অপেক্ষমাণ রোগীদের সংখ্যা কমাতে তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে। তবে দলের মধ্যপন্থি ও ডানঘেঁষা অংশে জনপ্রিয় হলেও, কিছু সদস্য তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সংরক্ষিত মনোভাব পোষণ করেন।

আলোচনায় অ্যাঞ্জেলা রায়নারও

ব্রিটিশ রাজনীতির অন্যতম পরিচিত নারী নেতা অ্যাঞ্জেলা রায়নারও সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের তালিকায় রয়েছেন। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা রায়নারের রাজনৈতিক যাত্রা অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার গল্প। অল্প বয়সে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হলেও পরবর্তীতে শ্রমিক আন্দোলন ও ট্রেড ইউনিয়ন রাজনীতির মাধ্যমে তিনি জাতীয় পর্যায়ে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।

একসময় কেয়ার ওয়ার্কার হিসেবে কাজ করার সময় তিনি ইউনিসন ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হন, যা তার রাজনৈতিক উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০১৫ সালে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি জেরেমি করবিনের ছায়া মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। আবাসন খাতে সংস্কার এবং ভাড়াটিয়াদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা বিশেষভাবে আলোচিত।

তবে ২০২৫ সালে একটি সম্পত্তি ক্রয় সংক্রান্ত কর ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিতর্কের মুখে পড়ে তিনি পদত্যাগ করেন।

আরও যাদের নাম শোনা যাচ্ছে

সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের নামও উঠে এসেছে। যদিও তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, দলীয় নেতৃত্বে ফেরার কোনো পরিকল্পনা তার নেই।

এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে অভিবাসন নীতিকে কেন্দ্র করে তার কিছু সিদ্ধান্ত বিতর্ক সৃষ্টি করায় দলীয় কর্মী-সমর্থকদের পূর্ণ সমর্থন পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

অন্যদিকে, প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক রয়্যাল মেরিন কর্মকর্তা আল কার্নসকেও সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। লেবার পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলে এসব নামের মধ্যে কে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সমর্থন পান, সেদিকেই এখন নজর যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনের।

সূত্র: বিবিসি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...