যুক্তরাষ্ট্রের শত শত সামরিক সদস্য, বেসামরিক নাগরিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তামাক কোম্পানি বৃটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) এবং এর একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি বছরের পর বছর গোপনে উত্তর কোরিয়াকে সহায়তা করার মাধ্যমে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) ও হিজবুল্লাহকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরিতে অর্থ জুগিয়েছে। যার ফল ভোগ করেছেন মার্কিন নাগরিকরা।
এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ফেডারেল আদালতে দায়ের করা এই দেওয়ানি মামলায় ক্ষতিপূরণের অংক উল্লেখ করা হয়নি। তবে একটি ফেডারেল আইনের আওতায় এই মামলা করা হয়েছে, যেখানে সন্ত্রাসী হামলার শিকার ব্যক্তিরা শুধু সরাসরি হামলাকারীদের নয়, বরং সন্ত্রাসে সহায়তাকারী তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধেও ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বিএটি ২০০১ সালে উত্তর কোরিয়ার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত তামাক কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে দেশটিতে সিগারেট উৎপাদন শুরু করে। যদিও ২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে প্রতিষ্ঠানটি উত্তর কোরিয়ায় ব্যবসা বন্ধের ঘোষণা দেয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছেÑ বাস্তবে একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গোপনে এই কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছিল।
২০০৫ সালে দ্য গার্ডিয়ান-এর এক অনুসন্ধানে প্রথম এই গোপন কার্যক্রমের তথ্য সামনে আসে। পরে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট শুনানিতে বিচার বিভাগের জাতীয় নিরাপত্তা শাখার তৎকালীন প্রধান ম্যাথিউ ওলসেন জানান, উত্তর কোরিয়ায় বিএটির এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ৪১৮ মিলিয়ন ডলারের ব্যাংকিং লেনদেন হয়েছে, যা উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র কর্মসূচি এগিয়ে নিতে ব্যবহৃত হয়।
২০২৩ সালেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এক সমঝোতার অংশ হিসেবে বিএটি ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান স্বীকারোক্তিমূলক চুক্তিতে যায়। সহযোগী প্রতিষ্ঠানটি দোষ স্বীকার করে এবং নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন ও ব্যাংক জালিয়াতির অভিযোগে উভয় প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬২৯ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিতে সম্মত হতে হয়।
সে সময় বিএটির তৎকালীন প্রধান নির্বাহী জ্যাক বোলস এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা অতীতের ব্যবসায়িক কার্যক্রম থেকে উদ্ভূত এই অনিয়মের জন্য গভীরভাবে অনুতপ্ত। তিনি দাবি করেন, কোম্পানির নীতিমালা ও নৈতিক মানদণ্ড জোরদার করা হয়েছে।
মামলার নথিতে বলা হয়, সিগারেট উৎপাদন ও চোরাচালান থেকে পাওয়া অর্থ উত্তর কোরিয়া ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) ও হিজবুল্লাহকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরিতে সহায়তার জন্য ব্যবহার করেছে। এসব অস্ত্র ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি ইরাকের আল-আসাদ ও এরবিল বিমানঘাঁটিতে হামলা এবং ২০২২ সালে কুর্দিস্তানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যবহৃত হয় বলে অভিযোগ।
২০২০ সালের ওই হামলায় শতাধিক মার্কিন সেনা গুরুতর মস্তিষ্ক আঘাতে আক্রান্ত হন এবং এক ডজনের বেশি মানুষ নিহত হন। ২০২২ সালের হামলাতেও বহু মানুষ হতাহত হন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


আদানির সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তিতে লন্ডনের আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ বাংলাদেশের
ইমরান খান ছাড়াও যাদের ভিন্নমত দমন করছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী
আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইরান-তুরস্ক সমন্বয় জরুরি: আরাগচি