মার্কিন তরুণদের কাছে ইসরাইলের ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে নেতিবাচক হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের কাছে এখন ইসরাইলের নাম উঠলেই ‘গণহত্যা’ শব্দটি মনে আসে।
সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেনেট বলেন, ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম দেশটি মার্কিন জনগণের কাছে একটি ‘নেতিবাচক ব্র্যান্ডে’ পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো মার্কিন শিক্ষার্থীকে ইসরাইল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তাদের মনে এখন গণহত্যার বিষয়টি আসে।
বেনেট এ পরিবর্তনের সঙ্গে গাজার যুদ্ধ এবং ইসরাইলের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির সংকটের বিষয়টি স্বীকার করলেও মার্কিন জনগণের এই ধারণাকে তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। তার ভাষায়, এ ধারণা ‘সত্য বা ন্যায্য নয়’, তবে বাস্তবতা হলো ইসরাইলের ভাবমূর্তি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
মার্কিন জনমত পরিবর্তনের পেছনে কাতারের প্রভাবকেও দায়ী করেছেন সাবেক এই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। তার দাবি, গত ২৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে কাতারকে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ইসরাইলের বিরুদ্ধে জনমত তৈরিতে কাতারের ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে দেশটির আন্তর্জাতিক সমালোচনা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে বেসামরিক মানুষের হতাহত এবং মানবিক পরিস্থিতির অবনতির কারণে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি হামলায় ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং গাজার অবকাঠামোর বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে।
গত বছরের অক্টোবরে গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও সেখানে হামলা ও হতাহতের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরাইলি হামলায় ১ হাজার ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ৩০০-এর বেশি আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গাজায় নিহতদের অনেকের মরদেহ ধ্বংস হওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ফলে যুদ্ধের মানবিক ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র আরও বড় হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গাজা যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। আদালত তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছে।
বেনেটের সাম্প্রতিক মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, গাজা যুদ্ধ শুধু ইসরাইলের সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থানকেই চাপে ফেলেনি, বরং যুক্তরাষ্ট্রের জনমতেও দেশটির ভাবমূর্তি নিয়ে বড় পরিবর্তন এনেছে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


